Logo

মেহেরপুর সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির সাথে যুক্ত হয়েছেন স্থানীয়রাও

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
মেহেরপুর
৬ জুন, ২০২৬, ১৫:৪৭
মেহেরপুর সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির সাথে যুক্ত হয়েছেন স্থানীয়রাও
ছবি: প্রতিনিধি

মেহেরপুর জেলার তিন দিকজুড়ে বিস্তৃত ৯৭ কিলোমিটার সীমান্তে সম্ভাব্য পুশইন ও চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রাতদিন সীমান্তজুড়ে টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নগুলো।

বিজ্ঞাপন

চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের আওতাধীন এই সীমান্তে বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক চলাচলের ওপর রাখা হচ্ছে সার্বক্ষণিক নজরদারি। সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত টহল দল মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন মোট ৮১টি টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, আনসার ও ভিডিপির সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রাতে সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সার্চলাইটের আলো ও বিভিন্ন গতিবিধির দিকে সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে। বিজিবির দাবি, পুশইনের আশঙ্কাযুক্ত এলাকায় অনেক সময় ভারতীয় কাঁটাতারের আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।

সীমান্ত পাহারায় এবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুক্ত হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। কাথুলী সীমান্তের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম জানান, দেশ ও সীমান্ত রক্ষায় বিজিবির সঙ্গে তারা রাতভর পাহারায় অংশ নিচ্ছেন। একই এলাকার আরেক বাসিন্দা খাইরুল ইসলামও সীমান্ত নিরাপত্তায় সহযোগিতার কথা জানান।

কাথুলী বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. অছিকুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সীমান্তে অবৈধভাবে লোকজন ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী বৈধভাবে কাউকে পাঠালে যাচাই-বাছাই শেষে গ্রহণে কোনো আপত্তি নেই। তবে অবৈধ পুশইন প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।

বিজ্ঞাপন

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, মেহেরপুর সীমান্তের একটি বড় অংশ তাদের দায়িত্বে রয়েছে এবং অবশিষ্ট অংশ কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন নিয়ন্ত্রণ করছে। রাতের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণকেও সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে।

৪৭ কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় পাটক্ষেত ও ফসলি জমির কারণে কিছুটা নজরদারি জটিল হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। কৃষকদের নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সবমিলিয়ে সীমান্তজুড়ে বিজিবির কঠোর নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয়দের অংশগ্রহণ পরিস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD