বাগাতিপাড়ায় দুই বছরেও শেষ হয়নি চার সড়কের সংস্কার কাজ

নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভার চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার প্রায় দুই বছর পার হলেও এখনো শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের বহু পরে এসে কাজগুলো অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ধুলাবালি, কাদা, গর্ত ও ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে প্রতিদিন দুর্বিষহ যাতায়াত করতে হচ্ছে পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকদের।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারের নামে পুরোনো সড়ক কেটে খোয়া ও বালু ফেলে রাখা হলেও এরপর দীর্ঘ সময় ধরে কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বারবার আশ্বাস মিললেও কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের মে মাসে পৌর এলাকার চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বারইপাড়া সড়কের ৫৭৫ মিটার, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাছিমপুর সড়কের ১০৫ মিটার, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষণহাটি সড়কের ৮৩ মিটার এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাপাতিল সড়কের ৬২ মিটারসহ মোট ৮২৫ মিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য ৮২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স।
বিজ্ঞাপন
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দেড় বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও সড়কগুলো ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঠিকাদারকে একাধিকবার তাগিদ ও নোটিশ দেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। এছাড়া অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় বিভিন্ন সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও আগাছা ও ঘাস জন্মে রাস্তার চিহ্ন মুছে যেতে বসেছে। অনেক স্থানে ইটের খোয়া ওপরে উঠে এসে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। বৃষ্টির সময় এসব সড়কে পানি জমে স্থানীয়দের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
সোনাপাতিল মহল্লার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে রাস্তাটির সংস্কার কাজ ঝুলে আছে। বড় বড় খোয়া বের হয়ে থাকায় চলাচল খুবই কষ্টকর। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দ্রুত কাজ শেষ করা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
মাছিমপুর এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল গনি বলেন, রাস্তার পুরোনো অংশ তুলে শুধু খোয়া ফেলে রাখা হয়েছে। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। বারবার শুনছি কাজ শুরু হবে, কিন্তু বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
বাগাতিপাড়া পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এ.এস.এম. শহিদুল ইসলাম বলেন, “চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ঠিকাদারকে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও তিনি গুরুত্ব দেননি। তবে সম্প্রতি কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে।”
বিজ্ঞাপন
তবে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক দেবাশীষ বসাক বলেন, আমি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকা এই প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ দূর করার দাবি জানিয়েছেন বাগাতিপাড়া পৌরসভার বাসিন্দারা।








