যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূর শরীরে এসিড, স্বামী আটক

ভোলার দৌলতখান উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে আখি আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূর শরীরে এসিড লাগিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী হাসনাইন আহমেদ মুসার (২৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুসাকে আটক করেছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আহত আখি আক্তারকে চিকিৎসার জন্য ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার বুক ও পেটের ওপরের অংশে পোড়া রয়েছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে এবং তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
আটক হাসনাইন আহমেদ মুসা দৌলতখান উপজেলার উত্তর জয়নগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চালতাতলী গ্রামের বাসিন্দা মিলন মাঝির ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ মাস আগে একই ইউনিয়নের পাশের গ্রামের আখি ও মুসার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল বলে অভিযোগ পরিবারের।
বিজ্ঞাপন
গত রবিবার বিকেলে আখি শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। তবে তখনও শরীরে এসিড দেওয়ার বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের কাছে জানাননি তিনি। পরে মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যদের কাছে শরীরের বিভিন্ন অংশে স্বামীর দেওয়া এসিডের ক্ষত দেখান। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী আখি আক্তারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন। তিনি বলেন, বিয়ের পাঁচ মাসের মধ্যেই তাকে নানা ধরনের অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। গত শুক্রবার সকালেও তার স্বামী তাকে মারধর করেন।
আখির ভাষ্য, শনিবার দিনগত মধ্যরাতে তার স্বামী বাজার থেকে এসিড কিনে আনেন। এরপর হাতে পলিথিন পেঁচিয়ে তার শরীরে এসিড লাগিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হলেও তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়। পরে রবিবার সুযোগ পেয়ে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আখি বলেন, “কী অন্যায় আমার?”
আখির মা রেহানা বেগমের অভিযোগ, বিয়ের সময়ের কথাবার্তার বাইরে গিয়ে তার মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন অতিরিক্ত স্বর্ণ ও ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিল। মুসা ব্যবসা করবে—এমন কথা বলে এই টাকা দাবি করা হয় বলে জানান তিনি।
রেহানা বেগম বলেন, যৌতুক দিতে না পারায় তার মেয়েকে নিয়মিত নির্যাতন করা হতো। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়বার সালিশও হয়েছে। পরে মেয়েকে আবার শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো হয়। কিন্তু রোববার মেয়েকে বাবার বাড়িতে ফিরে আসার পর তার শরীরের গলা থেকে নিচের অংশ পোড়া দেখতে পান তিনি।
বিজ্ঞাপন
মেয়ের ওপর নির্যাতনের বিচার দাবি করে রেহানা বেগম বলেন, “আমি এর বিচার চাই।”
ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান বলেন, এসিড নিক্ষেপের অভিযোগে দুপুরে আখি আক্তার নামে এক রোগীকে তার স্বজনরা জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোগীর বুকে ও পেটের ওপরের অংশে বার্ন রয়েছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে এবং তিনি শঙ্কামুক্ত।
দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফকরুল ইসলাম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহবধূর স্বামীকে আটক করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার এখনো থানায় মামলা করেনি। মামলা হলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








