Logo

পুশইন আতঙ্কে সীমান্তে সতর্কতা জোরদার, ডিমলায় বিজিবির টহল বৃদ্ধি

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
ডিমলা, নীলফামারী
৯ জুন, ২০২৬, ১৪:০৫
পুশইন আতঙ্কে সীমান্তে সতর্কতা জোরদার, ডিমলায় বিজিবির টহল বৃদ্ধি
ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য ‘পুশইন’ নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন, বিজিবি ও জনপ্রতিনিধিরা।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার বালাপাড়া, পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই ও টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে বাড়তি সতর্কতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিজিবির একাধিক ফাঁড়িতে টহল ও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয়দের নিয়ে রাতভর পাহারার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ‘পুশইন’ ঘটনার আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ার পর ডিমলার সীমান্তসংলগ্ন জনপদেও উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর ইউনিয়ন পরিষদ ও প্রশাসনের উদ্যোগে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক কোনো গতিবিধি দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন বা বিজিবিকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাত জেগে পাহারা দেওয়া হচ্ছে।

পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আবদুল লতিফ খান জানান, বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয়দের সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে পশ্চিম ছাতনাই ও বালাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণকে সজাগ রাখা হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন বলেন, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে রাতভর পাহারা ও সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।

বালাপাড়া বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমাদের দায়িত্বাধীন সীমান্ত এলাকায় এখন পর্যন্ত কোনো পুশইনের ঘটনা ঘটেনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, সীমান্তবর্তী জনপ্রতিনিধি ও বিজিবির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং প্রশাসন যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাড়তি নজরদারি ও সমন্বিত সতর্কতামূলক কার্যক্রমের ফলে সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো ‘পুশইন’ ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি, তবুও সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD