Logo

টানা তৃতীয় দিনের মতো পাটক্ষেতে দিন কাটাচ্ছেন সেই ১২ জন

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া
১৪ জুন, ২০২৬, ১৪:১১
টানা তৃতীয় দিনের মতো পাটক্ষেতে দিন কাটাচ্ছেন সেই ১২ জন
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতায় তিনটি পরিবারের ১২ সদস্য টানা তৃতীয় দিনের মতো সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছেন। শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ এসব মানুষ খোলা আকাশের নিচে পাটক্ষেতের মধ্যে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৪ জুন) পর্যন্ত তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) ভোর থেকে তারা সীমান্তের ভারতীয় অংশের কাছাকাছি একটি পাটক্ষেতের মধ্যে অবস্থান করছেন। ফলে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারছেন না, আবার ভারতীয় ভূখণ্ডেও ফিরে যেতে পারছেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা মানবিক কারণে তাদের কাছে খাবার, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে সীমান্তের অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে তারা এখনো নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারেননি।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনার পর শনিবার (১৩ জুন) সকালে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি বিএসএফ।

বৈঠকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।

প্রাগপুর সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আসাদুজ্জামান জানান, শুক্রবার ভোরে বিএসএফ ১২ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তির মুখে ওই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। এরপর থেকেই তারা সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, ওই ১২ জনের মধ্যে ১০ মাস থেকে চার বছর বয়সী চারটি শিশু রয়েছে। এছাড়া একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন। টানা দুই রাত ধরে তারা পাটক্ষেতের মধ্যে একটি শিমুল গাছের নিচে অবস্থান করছেন, যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

বিএসএফের দাবি অনুযায়ী, এসব ব্যক্তির বাড়ি বাংলাদেশের চাপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চলে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব সম্পর্কিত তথ্যের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

এদিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও মানবিক সহায়তা নিয়ে ওই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন।

সীমান্তে আটকে পড়া এসব মানুষের ভাগ্য নির্ধারণে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলছে। নাগরিকত্ব যাচাই ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD