‘তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না’ বলা সেই নেতা অবশেষে বহিষ্কার

গাজীপুরের টঙ্গীতে পোশাক শ্রমিক সংগঠনের এক নেতার কাছে চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগে ছাত্রদলের এক নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতা রাতুল শিকদার অমি গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের ৫১ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতি ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৬ জুন) গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান মিরন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও কলরেকর্ডে রাতুল শিকদার অমির বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। ঘটনাটি সামনে আসার পর সোমবার রাতেই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এদিকে একই দিন সকালে বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেডিং ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে রাতুল শিকদারসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গাজীপুরের সাতাইশ এলাকায় অবস্থিত শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যালয়ে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময়ে চাঁদার জন্য যাতায়াত করতেন। পরে অফিসটি অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হলেও সেখানে গিয়েও তারা অর্থ দাবি অব্যাহত রাখেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রত্যাশিত পরিমাণ অর্থ না পাওয়ায় কয়েক মাস আগে শ্রমিকনেতা মাজহারুল ইসলামকে জোরপূর্বক আটকে রেখে ৬৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এরপর থেকে মোবাইল ফোন ও বিকাশের মাধ্যমে নিয়মিত অর্থ দাবি করা হতো। চাঁদা দিতে অনাগ্রহ দেখালে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপে একজন ব্যক্তিকে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করতে শোনা যায়। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসলেও কোনো ধরনের সুপারিশ বা পরিচয় কাজে আসবে না বলে দাবি করেন এবং নানা ধরনের হুমকিমূলক বক্তব্য দেন। ওই অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডে রাতুল শিকদার বলেন, ‘আপনি আমাকে একদিন দিয়েছেন এক হাজার টাকা, আরেক দিন দিয়েছেন পাঁচশ টাকা। আজকা ভাই দুই-তিন হাজার টাকা দিয়েন। আপনি টাকাটা পাঠান না কেন বুঝলাম না। অফিসের কিন্তু কিছুই বার করতে পারবেন না। আপনি টাইম দিয়েছেন পাঁচটা সাড়ে-পাঁচটা। সাড়ে ৫টার পর কয়ডা ফোন দিলাম, ফোন ধরেন নাই বা ব্যাকও করলেন না। আমারে বুঝান ফোন ধরেন নাই কেন। আপনার এত বড় ক্ষমতা, ফোন ধরেন দেহি। ফোন ধরেন না, আবার আরেকজনের নাম ভাঙ্গান মিয়া। এখানে স্বয়ং তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না। আপনি তো পাপ্পু সরকারের নাম বেচেন মিয়া। আপনি সুমন লস্কররে কইয়েন তারেক রহমানের নাম কইলেও কাজ হইবো না। বুঝেন নাই, এইডা আমার বাড়ির রোড। এখানে প্রাইম মিনিস্টার আইলেও কাজ হইবো না, বুঝেন নাই। এইডা সবই আমার জানা আছে, ফাঁপরে আছে কাম কাজে নাই, আমি ফাঁপরে ডরাই না। আপনি পাপ্পু সরকার, সুমন লস্কর আর কেডা কেডা আছে লইয়া বসেন এবং কন আমি আইতাছি।’
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে রাতুল শিকদার অমির বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, ছাত্রদল নেতা রাতুল শিকদারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








