Logo

এসি-সিসি ক্যামেরা লাগানো সেই ‘মাদকের ঘাঁটি’ গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
নোয়াখালী
১৬ জুন, ২০২৬, ২১:১৯
এসি-সিসি ক্যামেরা লাগানো সেই ‘মাদকের ঘাঁটি’ গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর চাটখিলে সরকারি খাস জমি দখল করে গড়ে ওঠা একটি কথিত বিলাসবহুল মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানের পর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে স্থাপনাটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে চাটখিল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামের বেদে পল্লি এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন।

অভিযান চলাকালে বুলডোজার ব্যবহার করে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের দাবি, সরকারি জায়গা দখল করে নির্মিত এই স্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছিল।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাধারণ ঝুপড়ি ঘরের আড়ালে একটি আধুনিক ও বিলাসবহুল পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) ও সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সুবিধা ছিল। তাদের দাবি, ববিতা আক্তার সুমাইয়া নামে এক নারী দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থান পরিচালনা করছিলেন।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, দিন-রাত বহিরাগত লোকজনের আনাগোনা থাকায় স্থানীয় পরিবেশের অবনতি ঘটছিল। বিশেষ করে তরুণদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল বলে অভিযোগ করেন তারা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও সম্প্রতি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়।

এর আগে গত রোববার বিকেলে চাটখিল থানা পুলিশ প্রথম ধাপে ওই স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সেখান থেকে একটি এসির রিমোট কন্ট্রোল, নজরদারির জন্য ব্যবহৃত সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মাদক সেবন ও সংরক্ষণের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযানের আগেই মূল অভিযুক্ত ববিতা আক্তার সুমাইয়া পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলার তথ্য রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার মেয়ে ও এক আত্মীয়কে আটক করা হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উচ্ছেদ করা স্থাপনাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানাধীন খাস জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। একই এলাকার ওপর দিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ চার লেন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজও চলমান রয়েছে। ফলে অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং উন্নয়নকাজের স্বার্থেও অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

অভিযানের পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। তারা আশা প্রকাশ করেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম আর গড়ে উঠতে পারবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি জমি দখল করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি এলাকার সামাজিক পরিবেশ সুরক্ষা এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

তিনি আরও জানান, মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি সম্পত্তি দখল কিংবা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD