নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই হাতের টানে উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন একটি সড়কের কাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, বিপুল অর্থ ব্যয়ে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং ত্রুটিপূর্ণ কাজের কারণে নতুন কার্পেটিং করা অংশের পিচ হাত দিয়েই তুলে ফেলা যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এ অভিযোগের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে পাঁচপীর জালাই এলাকায় স্থানীয় জনগণ একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। সভায় বক্তারা নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আইআরআইডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় জয়চন্ডী ইউনিয়নের পাঁচপীর বৈঠাং জালাই সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির জন্য প্রায় ৯৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে প্রায় ৯৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকার চুক্তির মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় শ্রীমঙ্গলের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
বিজ্ঞাপন
প্রকল্পের কাজ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা শেষ করা সম্ভব হয়নি। প্রথম দফায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও পরে কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, পাঁচপীর জালাই, বৈঠাং জালাই, গোগালি ছড়া এবং মেরিনা চা-বাগানসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। কুলাউড়া উপজেলা সদর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জুড়ী উপজেলার অনেক মানুষ বিকল্প পথ হিসেবে সড়কটি ব্যবহার করেন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই অঞ্চলের সড়ক উন্নয়নের দাবি ছিল। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো ওই এলাকায় সড়কের একটি অংশ পাকাকরণের কাজ শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কাজের শুরু থেকেই নানা অনিয়ম চোখে পড়ে বলে অভিযোগ তাদের।
বিজ্ঞাপন
তাদের দাবি, সড়ক নির্মাণে মানসম্মত উপকরণের পরিবর্তে নিম্নমানের ইটের খোয়া ও বালু ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কার্পেটিংয়ের কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে নতুন করে বিছানো পিচের স্তর সড়কের সঙ্গে ঠিকভাবে সংযুক্ত হয়নি এবং অনেক জায়গায় সহজেই উঠে যাচ্ছে।
প্রতিবাদ সভায় স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মতিন, ফজলুর রহমান, শামীমা বেগম, আফতার আলী, আব্দুর রহিম, রাজিব আহমদ রাজু ও আলম আহমদ বক্তব্য দেন। তারা বলেন, জনগণের অর্থে নির্মিত সড়কের কাজ যেন মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন বলেন, কোথাও কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে তা সংশোধন করা হবে। তিনি দাবি করেন, পাহাড়ি টিলা ও বৃষ্টিপ্রবণ এলাকায় কাজ হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে সড়কের কিছু অংশ পুনরায় মেরামত করতে হয়েছে। কাজ সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন।
এদিকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার জয় সরেজমিনে নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি কিছু ত্রুটির সত্যতা পান বলে জানান।
তিনি বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সড়কটি পরিদর্শন করা হয়েছে এবং যেসব ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে, সেগুলো দ্রুত সংশোধনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর তা নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা প্রকৌশলী আরও জানান, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল পরিশোধ করা হবে না। শিডিউল অনুযায়ী সব কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।








