Logo

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ : মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচার আকুতি জামালপুরের যুবকের

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
জামালপুর
১৯ জুন, ২০২৬, ১৮:৫০
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ : মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচার আকুতি জামালপুরের যুবকের
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়ে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন জামালপুরের এক যুবক। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পাঠানো একটি ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নেওয়ার পর তাকে ফ্রন্টলাইনে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি আহত অবস্থায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

জামালপুর সদর উপজেলার গোদাশিমলা এলাকার বাসিন্দা আরমান আলী সম্প্রতি একটি অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে গোপনে ধারণ করা ভিডিও বার্তায় নিজের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে আরমানের বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, তার ছেলে বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন এবং পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে গভীর উদ্বেগে আছেন।

বিজ্ঞাপন

ভিডিও বার্তায় আরমান অভিযোগ করেন, উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাকে এবং আরও কয়েকজন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। তাদের বলা হয়েছিল ড্রোন কোম্পানি ও নির্মাণ খাতে কাজ দেওয়া হবে। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর স্বল্প সময়ের প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, তাদের ১৬ জনের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল। সেখানে ধারাবাহিক হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। বর্তমানে মাত্র চারজন জীবিত রয়েছেন এবং তারা সবাই আহত।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আহত অবস্থায় ফিরে আসার পরও আবার যুদ্ধে অংশ নিতে চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় তাদের মারধর করা হয়েছে এবং কয়েকদিন বাংকারে আটকে রেখে খাবার ও পানীয় থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

ভিডিও বার্তার এক পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে আরমান বলেন, তারা জীবিকার সন্ধানে বিদেশে গিয়েছিলেন, যুদ্ধ করতে নয়। দেশে ফিরে পরিবারের কাছে থাকতে চান এবং নিজের পাঁচ মাস বয়সী কন্যাসন্তানের মুখ দেখতে চান।

ভিডিওটি প্রকাশের পর গোদাশিমলা এলাকায় আরমানের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। তার বাবা রফিকুল ইসলাম ছেলেকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ কামনা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, কয়েকদিন আগে ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছে। দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার বলেন, ঘটনাটি তার জানা ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হলে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD