ঢাকার মাদরাসায় পাওয়া গেল ‘মেইড ইন পাকিস্তান’ লেখা অস্ত্র

ঢাকার আশুলিয়ার একটি মাদরাসা প্রাঙ্গণ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিদেশি তৈরি একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটির গায়ে ইংরেজিতে ‘মেইড ইন পাকিস্তান’ লেখা খোদাই করা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৮ জুন) বিকেলে আশুলিয়া থানাধীন শ্রীপুর গণকবাড়ী এলাকার একটি মাদরাসায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
র্যাব-৪ সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নবীনগর ক্যাম্পের সিপিসি-২-এর একটি টহল দল ওই মাদরাসা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। প্রাথমিকভাবে সেখানে মাদকদ্রব্য মজুত থাকার তথ্য পেয়েছিল বাহিনীটি। সেই তথ্য যাচাই করতে গিয়ে মাদরাসা প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়।
বিজ্ঞাপন
একপর্যায়ে অভিভাবকদের জন্য নির্ধারিত অপেক্ষাকক্ষের পাশে নির্মাণাধীন একটি ওয়াশরুম সন্দেহজনক মনে হলে সেখানে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। তল্লাশির সময় ওয়াশরুমের টয়লেট অংশের মেঝেতে কয়েকটি ইট সরিয়ে একটি পুরোনো ও ছেঁড়া শপিং ব্যাগ পাওয়া যায়। পরে ব্যাগটি খুলে দেখা যায়, ভেতরে সবুজ রঙের পলিথিনে মোড়ানো একটি রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি রাখা রয়েছে।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি আট চেম্বারবিশিষ্ট একটি রিভলবার। এর ব্যারেল, ট্রিগার, হ্যামারসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অংশ কার্যক্ষম অবস্থায় রয়েছে। অস্ত্রটির গায়ে স্পষ্টভাবে ‘মেইড ইন পাকিস্তান’ লেখা খোদাই করা পাওয়া গেছে। এছাড়া উদ্ধার হওয়া ২২ বোরের দুই রাউন্ড গুলির পেছনেও ইংরেজি অক্ষরে একটি চিহ্ন খোদাই করা ছিল।
র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অস্ত্র ও গুলিগুলো কার মালিকানাধীন এবং কী উদ্দেশ্যে মাদরাসা প্রাঙ্গণের নির্মাণাধীন স্থাপনায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
র্যাব-৪-এর সিপিসি-২-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আরমান হোসেন হৃদয় বলেন, অস্ত্রটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এর উৎস, ব্যবহারকারী এবং কীভাবে এটি সেখানে পৌঁছেছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে। তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ঢাকা ওয়াসার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলি আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আশুলিয়া থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, জনবহুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায় এ ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের উপস্থিতি উদ্বেগজনক। তাই অস্ত্রটি সেখানে কীভাবে এল এবং এর পেছনে কোনো অপরাধচক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তদন্ত শেষ হলে অস্ত্রটির প্রকৃত মালিকানা ও এর পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।








