অন্যের মৃত্যুদণ্ডের হুলিয়া নিয়ে ৪৯ দিন কারাগারে সোনা মিয়া

অপরাধ না করেও অন্যের পরিচয়ে মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হয়ে ১ মাস ২১ দিন কারাগারে থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন কক্সবাজার শহরের সোনা মিয়া। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২০ সালের মামলায় ‘সোনা মিয়া’ পরিচয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে রমজান। তিনি সোনা মিয়ার পরিচয় ব্যবহার করে মামলার আসামি হয়েছিলেন।
বিজ্ঞাপন
২০২০ সালের ২ মার্চ কক্সবাজারে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ওই মামলায় দ্বিতীয় আসামি হিসেবে ‘সোনা মিয়া’র নাম দেওয়া হয়। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামলায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড হয়। গত ২৩ জুন র্যাব-১৫ সোনা মিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
কারাগারে যাওয়ার পর সোনা মিয়া দাবি করেন, তিনি ওই মামলার আসামি নন। পরে জেল সুপারের মাধ্যমে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। আদালতের নির্দেশে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি ও গত ২৩ জুন গ্রেপ্তার হওয়া সোনা মিয়া একই ব্যক্তি নন। ২০২০ সালে গ্রেপ্তার ব্যক্তি রমজান নামে পরিচিত এবং তিনি সোনা মিয়ার জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। দুজনের ছবি, পারিবারিক তথ্য ও শারীরিক পরিচয়েও পার্থক্য পাওয়া যায়।
গত ১২ আগস্ট আদালত চারটি শর্তে সোনা মিয়াকে মুক্তির সিদ্ধান্ত দেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্ত হন।
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান জানান, সোনা মিয়াকে প্রতি সপ্তাহে থানায় হাজিরা দিতে হবে, দেশত্যাগ করা যাবে না এবং প্রতি তিন মাস পরপর আদালতে হাজির হতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত আসামিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, তদন্তে সোনা মিয়ার নাম ব্যবহার করে রমজান নামের এক ব্যক্তির প্রতারণার বিষয়টি উঠে এসেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








