শাহজালাল মাজারের দানবাক্স সিলগালা করলো প্রশাসন

হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে মাজারের বিদ্যমান দানবাক্স ও দানের পাত্রগুলো সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, দানের অর্থের হিসাব আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৩টার দিকে সিলেট জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাজার প্রাঙ্গণে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার নেতৃত্বে প্রশাসনের কয়েকজন সহকারী কমিশনার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাজার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেই পুরোনো দানবাক্সগুলো সিলগালা করা হয়েছে এবং নতুন দানবাক্স বসানো হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, দানের অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ কাঠামো গড়ে তুলতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: লোহাগাড়ায় পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামী আটক
বিজ্ঞাপন
তবে বিষয়টি নিয়ে মাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভিন্ন মতও রয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে মাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও প্রশাসন এ অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় এবং পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মাজারে আগত ভক্তদের দেওয়া অনুদান ও দানের অর্থের সুনির্দিষ্ট হিসাব-নিকাশ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে মাজারে ব্যবহৃত দানের ডেক বা ডেকচিগুলো সিলগালা করা হয়েছে এবং প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে।

এদিন মাজারে একটি বড় কেন্দ্রীয় দানবাক্স স্থাপনের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরও কয়েকটি ছোট দানবাক্স বসানো হয়। নতুন দানবাক্সগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাজার এলাকায় আগে থেকে থাকা তিনটি দানের ডেকও প্রশাসনিকভাবে সিলগালা করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে গত সপ্তাহে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সগুলোতেও তালা লাগানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দুই মাজারের আর্থিক লেনদেন ও দানের অর্থের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জনমনে নানা প্রশ্ন থাকায় প্রশাসন স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে।
আরও পড়ুন: মেহেরপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা যায়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আবেদনের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। এরপর জেলা প্রশাসন, ওয়াক্ফ এস্টেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞাপন
এসব বৈঠকে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য হিসাবপত্রের অভাব, আয়-ব্যয়ের তথ্য সংরক্ষণে অস্পষ্টতা এবং জবাবদিহিতার ঘাটতির বিষয়গুলো উঠে আসে। পরবর্তীতে দানের অর্থ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ, নিয়মিত অডিট কার্যক্রম পরিচালনা এবং একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আর্থিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, আগামী এক মাস জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওয়াক্ফ এস্টেট ও মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে দানের অর্থের হিসাব সংরক্ষণের কাজ করবে। এই সময়ের মধ্যে দানের উৎস, অর্থ ব্যয়ের খাত, প্রশাসনিক কাঠামো এবং ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, পর্যালোচনার ভিত্তিতে এমন একটি আর্থিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিয়মতান্ত্রিক হিসাব সংরক্ষণ নিশ্চিত হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে মাজারে প্রাপ্ত দানের অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে স্পষ্ট তথ্য উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।








