সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত আদেশে সারওয়ার আলমের নতুন কর্মস্থল নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রশাসন ক্যাডারের ২৭তম বিসিএসের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম সরকারি চাকরিজীবনে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে। সে সময় তিনি ভেজালবিরোধী অভিযান, বাজার তদারকি এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে ব্যাপক আলোচনায় আসেন।
বিজ্ঞাপন
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তিন শতাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। খাদ্যে ভেজাল, ওজন জালিয়াতি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে পরিচালিত এসব অভিযানের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তিনি ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
দীর্ঘ সময় ধরে মাঠ প্রশাসনে আলোচিত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে র্যাব থেকে সরিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। সে সময় তার বদলির বিষয়টি প্রশাসনিক অঙ্গনেও বেশ আলোচিত হয়েছিল।
কর্মজীবনে পদোন্নতি নিয়েও একাধিকবার আলোচনায় আসেন সারওয়ার আলম। উপসচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে পরপর তিনবার বঞ্চিত হওয়ার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। ওই পোস্টকে সরকারি চাকরিবিধির পরিপন্থী আচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২০২২ সালের মে মাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে ‘তিরস্কার’ দণ্ড প্রদান করে। সরকারি ভাষ্যে এটিকে লঘুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এরপরও কর্মজীবনে অগ্রগতি অব্যাহত রেখে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট তিনি উপসচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। পরে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদে দায়িত্ব পালন করেন।
বিজ্ঞাপন
সাম্প্রতিক এই আদেশের মাধ্যমে তাকে সিলেট জেলা প্রশাসনের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুনরায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে তার প্রত্যাহারের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।








