Logo

কাপাসিয়ায় বিদ্যুতের ভেলকিবাজি, গরমে নাজেহাল জনজীবন

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
কাপাসিয়া, গাজীপুর
২১ জুন, ২০২৬, ১৬:৩১
কাপাসিয়ায় বিদ্যুতের ভেলকিবাজি, গরমে নাজেহাল জনজীবন
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার মধ্যে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজজেলায় বেড়েছে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা। দিন-রাত ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আছেন শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি বিদ্যুতের অনিশ্চিত সরবরাহে ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে অনেক স্থানে নির্ধারিত ও অনির্ধারিত লোডশেডিং বেড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এবং গভীর রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গরমে অতিষ্ঠ মানুষ রাত জেগে সময় কাটাচ্ছেন, আবার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

টোক ইউনিয়নের বড়চালা গ্রামের বাসিন্দা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, রাতে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে গেছে। প্রচণ্ড গরমে ছোট সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে রাত পার করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে ঘরে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

একই ইউনিয়নের উলুসারা বাইতুন আমান প্রভাতবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিবুল্লাহ বলেন, বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মুসল্লিসহ সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়ছেন। গ্রাহকরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।

সনমানিয়া ইউনিয়নের গৃহিণী সাবিনা আক্তার জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, বাচ্চাদের পড়াতে বসলে বিদ্যুৎ চলে যায়। আবার কিছুক্ষণ পর এলেও বেশিক্ষণ থাকে না। এতে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও। বীর উজলী বাজারের ব্যবসায়ী মো. সোলায়মান বলেন, ফ্রিজে সংরক্ষিত দই, মিষ্টি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

একই বাজারের ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন লেনদেন ও ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবসা এখন বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আমরাইদ বাজারের ব্যবসায়ী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, গরমের মৌসুমে ঠান্ডা পানীয় ও আইসক্রিমের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজ সঠিকভাবে কাজ করে না, ফলে পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। কাপাসিয়া বাজারের শিক্ষার্থী মাহিম হোসেন বলেন, পরীক্ষার সময় রাতে পড়তে বসলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে মনোযোগ নষ্ট হয় এবং পড়াশোনার ক্ষতি হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কাপাসিয়া জোনাল অফিসের আওতায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৭ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ২৩ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ৪ মেগাওয়াট ঘাটতি নিয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ করতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

কাপাসিয়া জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. মাহবুব আলম জানান, বরাদ্দ স্বল্পতা ও উৎপাদন কেন্দ্রে কারিগরি সমস্যার কারণে অনেক সময় লোডশেডিং দিতে হয়। এছাড়া ঝড়-বৃষ্টি, গাছপালা বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে কাপাসিয়া জোনাল অফিসের আওতায় ৬০ হাজার ৩২০ জন গ্রাহক রয়েছেন। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে পুরোনো লাইন সংস্কার, নতুন লাইন নির্মাণ এবং সাবস্টেশন সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে আমরাইদ সাব-জোনাল অফিসের উপব্যবস্থাপক রব্বানী হাসান বলেন, আমাদের এলাকায় প্রায় ৭৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি আবহাওয়াজনিত ও কারিগরি নানা কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন আবাসন প্রকল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ার কারণে কাপাসিয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সাবস্টেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। না হলে আগামী দিনে লোডশেডিংয়ের চাপ আরও বাড়বে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে জনজীবন ও অর্থনীতির ওপর।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD