Logo

এনজিও ঋণের চাপ ও ভয়ভীতির অভিযোগে ৫ দিনের ব্যবধানে মা-মেয়ের মৃত্যু

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
দোহার, ঢাকা
১ জুলাই, ২০২৬, ১২:০১
এনজিও ঋণের চাপ ও ভয়ভীতির অভিযোগে ৫ দিনের ব্যবধানে মা-মেয়ের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার দোহারে মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে মা ও মেয়ের মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, এনজিও ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ, ভয়ভীতি ও অপমানজনক আচরণের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে অসুস্থ হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

নিহতরা হলেন দোহার খালপাড় এলাকার লাভলী আক্তার (৪০) ও তার মা রেহানা বেগম (৫৭)। পরিবার সূত্রে জানা যায়, লাভলী আক্তার এক বছর আগে ‘রুরাল কনস্ট্রাকশন নিউনেশন’ নামের একটি এনজিওর বটিয়া শাখা থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠান। পরে ছেলে নিয়মিত টাকা পাঠাতে না পারায় ঋণের কিস্তি পরিশোধে সমস্যায় পড়েন তিনি। পরিবারের দাবি, এ কারণে এনজিও কর্মকর্তারা তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দিতে থাকেন।

স্বজনদের অভিযোগ, কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে লাভলী মায়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। গত ২৪ জুন সেখানে অবস্থানের খবর পেয়ে এনজিওর এক কর্মকর্তা পুলিশ নিয়ে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখান। এরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

পরিবারের দাবি, মেয়ের মৃত্যুর পরও ঋণের টাকার জন্য রেহানা বেগমের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। সোমবার সন্ধ্যার আগে এনজিওর লোকজন নাগেরকান্দা এলাকায় গিয়ে টাকা পরিশোধ না করলে পুলিশের ভয় দেখান বলে অভিযোগ করা হয়। এতে অসুস্থ হয়ে পড়েন রেহানা বেগম। পরে তাকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতদের স্বজন নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমার মা ঋণের বিষয়টি জানতেন না। তারপরও এনজিওর লোকজন এসে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে এবং পুলিশের ভয় দেখায়। চাপ সহ্য করতে না পেরে আমার মা ও বোন মারা গেছেন। আমি এর বিচার চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা রইস লস্কর বলেন, মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে মা-মেয়ের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। ঋণ আদায়ের নামে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুরাল কনস্ট্রাকশন নিউনেশনের শাখা ব্যবস্থাপক আনোয়ার জাহিদ। তিনি বলেন, লাভলী আক্তার ছয় মাস আগে ঋণখেলাপি হয়েছেন। আমরা টাকা আদায়ের চেষ্টা করেছি, কিন্তু তাকে কোনো ধরনের চাপ দেওয়া হয়নি। মৃত্যুর পর ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্য তার মায়ের বাড়িতে গিয়েছিলাম।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুবকর সিদ্দিক জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাঈদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD