১৬ নেতার পদত্যাগের পর বিলুপ্ত যুবদলের কমিটি

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের নবঘোষিত কমিটি গঠনের পরপরই ৩১ সদস্যের মধ্যে ১৬ জন নেতার একযোগে পদত্যাগের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পর কেন্দ্রীয় যুবদল ওই ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) মিনহাজুল ভূঁইয়ার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি বিলুপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তবে বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি বাতিলের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক শামছুল আহসান মামুন জানান, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশনায় কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। তবে সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়নি।
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সভাপতি আবদুল আলিম হুমায়ুন বলেন, কমিটি ঘোষণার পর কয়েকজন নেতার পদত্যাগের খবর তিনি শুনেছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পদত্যাগপত্র জেলা কমিটির কাছে জমা পড়েনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলে কেন্দ্রীয় নেতারা তা আমলে নিয়ে কমিটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নেন।
বিজ্ঞাপন
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের নতুন কমিটি প্রকাশ করা হয়। এর আগে ওই ইউনিয়নের সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে কমিটি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ২৭ জুলাই ছয়জন যুগ্ম আহ্বায়কসহ মোট ১৬ জন নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
পদত্যাগকারী নেতাদের অভিযোগ, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রবাসে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি যোগ্যতা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব না পাওয়ার কারণেও তারা কমিটি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ ছাড়া তাদের দাবি, নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ এবং সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান মাসুদ—উভয়েই দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করার পর দেশে এসে কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন, যা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
বিজ্ঞাপন
কমিটি গঠনের পরপরই এতসংখ্যক নেতার পদত্যাগ এবং পরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কমিটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে নতুন কমিটি কবে গঠন করা হবে বা পরবর্তী সাংগঠনিক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।








