গলাচিপায় গ্রামীণ মাটির সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদের মাটির সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব সড়ক কাদায় পরিণত হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে চিকনিকান্দী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কালারাজা এলাকার সড়কটির অবস্থা সবচেয়ে নাজুক বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা এসব সড়ক সংস্কার ও পাকাকরণের নানা প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন তো দূরের কথা, অনেক সময় প্রার্থীদের আর এলাকায় দেখা যায় না। ফলে বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, গ্রামীণ জনপদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে আমখোলা ইউনিয়নের দড়ি বাহেরচর এলাকার রাস্তা, গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কয়েকটি সড়ক এবং চিকনিকান্দী ইউনিয়নের কালারাজা বাজারসংলগ্ন উত্তর পাশের মাটির সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
কালারাজা বাজারসংলগ্ন সড়কটি গজালিয়া ও আমখোলা ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি বর্তমানে চলাচলের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই এসব সড়কে হাঁটুপানি ও কাদার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে কালারাজার সড়কটি দিয়ে স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। বৃষ্টির সময় কাদায় পা পিছলে পড়ে যাওয়ার পাশাপাশি যানবাহন চলাচলও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন শত শত মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্বাচন সামনে এলেই মেম্বার, চেয়ারম্যান এমনকি সংসদ সদস্য প্রার্থীরাও নির্বাচিত হলে সড়কটি পাকাকরণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এসব প্রতিশ্রুতির আর কোনো বাস্তবায়ন দেখা যায় না। বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগে থাকলেও সড়কটি পাকাকরণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়রা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় বর্ষাকালে মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়।
এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কটি দ্রুত পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সড়কটি পাকাকরণ করা হলে কালারাজা এলাকার পাশাপাশি গজালিয়া ও আমখোলা ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।








