Logo

গভীর রাতে গৃহবধূর প্রেশার মাপতে গিয়ে ‘প্রেশারে’ চিকিৎসক

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
নেছারাবাদ, পিরোজপুর
১ আগস্ট, ২০২৬, ২২:৫২
গভীর রাতে গৃহবধূর প্রেশার মাপতে গিয়ে ‘প্রেশারে’ চিকিৎসক
ছবি: সংগৃহীত

পেশাগত দায়িত্ব পালনের কথা বলে গভীর রাতে এক গৃহবধূর বাড়িতে যাওয়া এক গ্রাম্য চিকিৎসককে ঘিরে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে চলছে নানা ধরনের মন্তব্য। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে দুই দফা সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাটি নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুলাই গভীর রাতে মো. শফিউল্লাহ নামে এক গ্রাম্য চিকিৎসক ওই গ্রামের এক গৃহবধূর বাড়িতে যান। এ সময় বাড়ির স্বজনেরা তাকে সেখানে দেখতে পেয়ে আপত্তি জানান। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে চিকিৎসক দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। পরবর্তীতে ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই চিকিৎসক ও গৃহবধূকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় নানা ধরনের গুঞ্জন ও আলোচনা চলছিল। সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম। তার উদ্যোগে দুই দফা সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো পক্ষই সমঝোতায় রাজি না হওয়ায় বিরোধের নিষ্পত্তি সম্ভব হয়নি।

ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী ঢাকায় একটি করাতকলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। অভাবের কারণে তিনি দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন। তাঁর দাবি, গ্রাম্য চিকিৎসক শফিউল্লাহ বিভিন্ন সময় তাঁকে ফোন করে বিরক্ত করতেন এবং বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। ঘটনার রাতে বৃষ্টির মধ্যে দরজায় এসে ডাকাডাকির পর তিনি দরজা খুললে চিকিৎসক জোর করে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে বাড়ির স্বজনেরা এসে তাঁকে দেখতে পান।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গ্রাম্য চিকিৎসক মো. শফিউল্লাহ। তিনি বলেন, গভীর রাতে ওই গৃহবধূ তাঁকে ফোন করে রক্তচাপ (প্রেশার) বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে ডাকেন। রোগী দেখতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। ঘরে প্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকজন এসে তাঁকে ঘিরে ধরে এবং ভিডিও ধারণ শুরু করলে তিনি ভয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। তাঁর দাবি, ওই পরিবারের সঙ্গে তাঁর আর্থিক লেনদেনও ছিল এবং তিনি গৃহবধূর স্বামীকে বিভিন্ন সময় টাকা ধার দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা চলছে। বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসার জন্য দুই দফা সালিস বৈঠক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় কৌতূহল ও আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা চলছে। বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসার জন্য দুই দফা সালিস বৈঠক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় কৌতূহল ও আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD