Logo

খোয়াই নদীর বাঁধে ভারতীয় ঢলের আঘাত, ডুবে যাওয়ার শঙ্কায় ৩০ গ্রাম

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
হবিগঞ্জ
২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৮:২২
খোয়াই নদীর বাঁধে ভারতীয় ঢলের আঘাত, ডুবে যাওয়ার শঙ্কায় ৩০ গ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে দ্বিতীয় দফায় ভেঙে গেছে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ। এতে বাঁধসংলগ্ন অন্তত ৩০টি গ্রামে আবারও প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৪ আগস্ট) খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান।

তিনি জানান, রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল পৌনে ১১টার দিকে সদর উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকার বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর সেখান দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে।

তিনি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে কালীগঞ্জে আগের ভেঙে যাওয়া বাঁধের মেরামত করা অংশে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত মাসে বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই সেখানে মেরামতের কাজ চলছিল।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সায়েদুর রহমান বলেন, রবিবার থেকে ভারতের পানির ঢল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। প্রায় ছয় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হওয়ায় মেরামত চলমান বাঁধটি পানির চাপ ধরে রাখতে পারেনি। দুপুরের দিকে বাঁধটি আবার ভেঙে যায় এবং পানি ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করে। বর্তমানে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার প্রায় ১৫৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এর আগে, গত ৯ জুলাই কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের এই স্থানটি ভেঙে অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। পরে পাউবো বাঁধ মেরামতের কাজে হাতে নেয়, কিন্তু দেড় মাসেও তা সম্পন্ন হয়নি।

বিজ্ঞাপন

কালীগঞ্জের বাসিন্দা শওকতুল ইসলাম বলেন, বাঁধের সেই একই অংশ দিয়ে এলাকায় পানি ঢোকায় আমরা আবারও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। আগের ভাঙনে আমাদের ফসল, ঘরবাড়ি ও গবাদিপশুর ক্ষতি হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল। আমরা ভেবেছিলাম কর্তৃপক্ষ এবার বাঁধটি ঠিকমতো মেরামত করবে, কিন্তু কাজটি ঠিকমতো হয়নি।

স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপারের নেতৃত্বে থাকা তোফাজ্জল সোহেল বলেন, দেড় মাস আগে একই বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিলেন। এ সময় মানুষের খেত-খামারসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এত অল্প সময়ের মধ্যে একই স্থানে আবারও বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ঘটনা প্রশাসনের ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছু নয়। এর প্রধান কারণ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলা। পানি উন্নয়ন বোর্ড আরও সচেতনভাবে এবং দ্রুততার সঙ্গে বাঁধের মেরামতের কাজ করলে এত মানুষকে আবারও পানিবন্দি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে হতো না।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আবু জাহের বলেন, গত মাসের বন্যায় ৩০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হয়েছিল। এখন আবার বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে; তবে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের আশ্রয়ন কেন্দ্রে নেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD