Logo

৩৩৬ কোটি টাকায় তৈরি রেলপথ পড়ে আছে ব্যবহারের অপেক্ষায়

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
পাবনা
২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১৯:৩৯
৩৩৬ কোটি টাকায় তৈরি রেলপথ পড়ে আছে ব্যবহারের অপেক্ষায়
ছবি: সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ঈশ্বরদী ইপিজেডের মালামাল পরিবহনের উদ্দেশ্যে প্রায় ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঈশ্বরদী-রূপপুর রেলপথ উদ্বোধনের সাড়ে তিন বছর পরও কার্যত অচল পড়ে আছে। ২৬ দশমিক ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে এখন পর্যন্ত কোনো বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল করেনি।

বিজ্ঞাপন

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ভার্চুয়ালি এই রেলপথ ও রূপপুর রেলস্টেশনের উদ্বোধন করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির নির্মাণকাজ চলে।

ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন থেকে ঈশ্বরদী জংশন হয়ে রূপপুর পর্যন্ত নির্মিত রেলপথটির জন্য মোট ৩৩৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় একটি আধুনিক রেলস্টেশন, ১৩টি লেভেল ক্রসিং, সাতটি বক্স কালভার্ট এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংযোগের জন্য কম্পিউটারভিত্তিক কালার লাইট সিগন্যালিং ব্যবস্থাও স্থাপন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রকল্প গ্রহণের সময় রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভারী যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পরিবহনের পাশাপাশি ঈশ্বরদী ইপিজেডের পণ্য আনা-নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই উদ্দেশ্যে এখনো রেলপথটির নিয়মিত ব্যবহার শুরু হয়নি।

সম্প্রতি রূপপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, আধুনিক অবকাঠামো থাকলেও স্টেশনটি অনেকটাই জনশূন্য। নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য ছাড়া সেখানে তেমন কর্মচাঞ্চল্য নেই। প্ল্যাটফর্মে ময়লা জমে আছে এবং টিকিট কাউন্টার, মালামাল বুকিং কক্ষ, অতিথিশালা, ভিআইপি কক্ষ, বিশ্রামাগারসহ অধিকাংশ কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী মাঝেমধ্যে মোটরট্রলি চলাচল করে। স্টেশনের ইয়ার্ডে কিছু নতুন ওয়াগন ও কোচও রাখা হয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা এসব রেলযান স্থান সংকুলান ও নিরাপত্তার কারণে সেখানে রাখা হয়েছে। তবে রূপপুর প্রকল্পের মালামাল পরিবহনে এখনো এই রেলপথ ব্যবহার করা হয়নি।

স্টেশনে দায়িত্ব পালনকারী নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্যের দাবি, হার্ডিঞ্জ সেতুর নিচ দিয়ে স্টেশনে যাতায়াতের পথটি ভারী মালামাল পরিবহনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে মালামাল ওঠানো-নামানোর কার্যক্রমও শুরু হয়নি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় রেললাইনের বিভিন্ন অংশে কাশ, ঘাস, লতাপাতা ও জঙ্গল বেড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপুল অর্থে নির্মিত অবকাঠামো এভাবে পড়ে থাকায় এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দ্রুত রেলপথটি কার্যকর ব্যবহারে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোশারেফ হোসেন ভূঁইয়া জানান, এখন পর্যন্ত এ রেলপথে কোনো বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল করেনি।

বিজ্ঞাপন

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম বলেন, রূপপুর প্রকল্পের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই রেলপথ ও স্টেশনটি নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে ব্যবহার সীমিত থাকলেও ভবিষ্যতে রূপপুর প্রকল্পের কাজে এর ব্যাপক ব্যবহার হতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD