Logo

ধামরাইয়ে চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
ধামরাই, ঢাকা
২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১৯:৪৫
ধামরাইয়ে চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার ধামরাইয়ে বৈদ্যুতিক পানির মোটর চুরির অভিযোগে শংকর চন্দ্র মণ্ডল (২৮) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার মামলার প্রধান আসামি মো. ওয়াজেদ হাজীকে (৫০) কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে কক্সবাজার সদর উপজেলার কলাতলী ডলফিন মোড়সংলগ্ন ময়না রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব-৪ ও র‌্যাব-১৫-এর যৌথ অভিযানে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওয়াজেদ হাজীকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাব-৪-এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার মো. হালিউজ্জামান।

গ্রেপ্তার ওয়াজেদ হাজী ধামরাইয়ের শরীফবাগ এলাকার মৃত ডাউরী বেপারীর ছেলে। তিনি ধামরাই থানার পশ্চিম কায়েতপাড়া এলাকায় সীমা সিনেমা হলের পাশে একটি রাইস মিল ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতেন।

বিজ্ঞাপন

র‌্যাবের ভাষ্য ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে ওয়াজেদ হাজীর ভাড়া নেওয়া রাইস মিল থেকে একটি বৈদ্যুতিক পানির মোটর চুরি হয়। এ ঘটনায় শংকর চন্দ্র মণ্ডলকে সন্দেহ করেন ওয়াজেদ হাজী।

গত ৮ আগস্ট রাতে ওয়াজেদ শংকরকে তাঁর কার্যালয়ে নিয়ে যেতে বলেন। পরে শংকরের বাবা এবং প্রতিবেশী দুলাল ও জিয়াকে সঙ্গে নিয়ে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তাঁরা ওই কার্যালয়ে যান। সেখানে শংকরের বাবাকে চলে যেতে বলা হয়। পরে দুলাল ও জিয়াকেও চা খেতে যাওয়ার কথা বলে টাকা দিয়ে বাইরে পাঠানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, এরপর ওয়াজেদ হাজী ও তাঁর সহযোগীরা শংকরকে কার্যালয়ের ভেতরে আটকে রেখে মোটর চুরির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তাঁর হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। ওয়াজেদ কাঠের লাঠি দিয়ে শংকরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন এবং তাঁর সহযোগীরা লোহার রড দিয়ে মারধর করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

র‌্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মারধরের একপর্যায়ে শংকর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুলাল ও জিয়াকে ডেকে তাঁকে পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ওই রাতে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থানীয়ভাবে তাঁর চিকিৎসা চলতে থাকে।

পরদিন ৯ আগস্ট ভোরে শংকরকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে অর্থের অভাবে তাঁকে সেখানে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল।

বিজ্ঞাপন

১৫ আগস্ট ভোর ৫টার দিকে বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শংকর মারা যান। খবর পেয়ে ধামরাই থানা-পুলিশ তাঁর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

এ ঘটনায় শংকরের বাবা বাদী হয়ে ধামরাই থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলা হওয়ার পর র‌্যাব ঘটনাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে। এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপরতার একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওয়াজেদ হাজীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

র‌্যাব জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪-এর সিপিসি-২ নবীনগর ক্যাম্প, সাভার এবং র‌্যাব-১৫-এর সদর কোম্পানির একটি যৌথ দল বুধবার রাতে কক্সবাজারের কলাতলী ডলফিন মোড় এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে ময়না রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে ওয়াজেদ হাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওয়াজেদ হাজী ওই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

গ্রেপ্তার ওয়াজেদ হাজীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD