মধুখালীতে পাট জাগ ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত কৃষক

ফরিদপুরের মধুখালীতে পাট কাটার মৌসুম ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মাঠ থেকে পাট কেটে আনার পর জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোর কাজে এখন গ্রামীণ জনপদে দেখা দিয়েছে কর্মচাঞ্চল্য। খাল-বিল, পুকুর ও বিভিন্ন জলাশয়ে সারি সারি পাট জাগ দেওয়ার দৃশ্য জানান দিচ্ছে পাট কাটার মৌসুমের ব্যস্ততা।
বিজ্ঞাপন
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষক পরিবারের সদস্যরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে ব্যস্ত। মধুখালী পৌরসদর ছাড়াও কামারখালী, কামালদিয়া, ডুমাইন, বাগাট, মেগচামী, রায়পুরসহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে পাট কাটার পরবর্তী কাজ।
কেউ জলাশয় থেকে পাট তুলে আঁশ ছাড়াচ্ছেন, কেউ পাটকাঠি আলাদা করে রোদে শুকাতে দিচ্ছেন। আবার কেউ পাটের আঁশ পরিষ্কার করে পানিতে ধুয়ে খোলা জায়গায় শুকানোর জন্য বিছিয়ে দিচ্ছেন। পরিবারের একাধিক সদস্য একসঙ্গে এসব কাজে অংশ নেওয়ায় কৃষক পরিবারগুলোতে এখন ব্যস্ততা বেড়েছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাঠ থেকে পাট কাটার পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পানিতে জাগ দেওয়ার পর আঁশ ছাড়ানোর কাজ করতে হয়। এরপর আঁশ ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকাতে দেওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি শ্রমনির্ভর হওয়ায় এ সময় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি অনেক এলাকায় দিনমজুররাও পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে যুক্ত হচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধুখালীতে পাট চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি মৌসুমে অনেক কৃষক ভালো ফলনের কথা জানিয়েছেন। ফলে উৎপাদন নিয়ে কৃষকদের মধ্যে সন্তোষ থাকলেও এখন তাদের প্রধান চিন্তা পাটের বাজারদর।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
কামালদিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের কৃষক সংগ্রাম বলেন, এ বছর আবহাওয়া পাট চাষের জন্য বেশ অনুকূল ছিল। প্রয়োজনীয় সময়ে বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটের ফলনও ভালো হয়েছে। উৎপাদন ভালো হওয়ায় লাভের আশা করছি। তবে বাজারে ন্যায্য দাম না পেলে সেই লাভের আশা পূরণ হবে না।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, চাষাবাদের বিভিন্ন উপকরণ ও শ্রমিকের খরচ বেড়েছে। উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় পাটের দাম ভালো পাওয়া গেলে কৃষকরা আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষে আগ্রহী হবেন।
কৃষকদের মতে, পাটের উৎপাদন খরচ দিন দিন বাড়ছে। বীজ, সার, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। তাই পাট বিক্রির সময় ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এ কারণে পাটের বাজারদর স্থিতিশীল রাখা ও কৃষকের উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে মূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কৃষিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অর্থনীতিতে পাটের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। একসময় দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলোর অন্যতম ছিল পাট। বর্তমানে পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা দেশ-বিদেশে রয়েছে। ফলে কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকারি প্রণোদনা বাড়ানো, উন্নত জাতের মানসম্মত বীজ সরবরাহ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
তাদের মতে, এসব সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে মধুখালীতে পাট চাষের পরিধি আরও বাড়বে। পাশাপাশি কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের রপ্তানি আয় বাড়াতেও পাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব ইলাহী জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে মোট ৮ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এ বছর পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হেক্টর বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।
তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে পাটের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও সন্তোষজনক হওয়ার আশা করা হচ্ছে। কৃষকরা যাতে পাট চাষে আরও উৎসাহিত হন, সে জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।








