এক মাসে তিন দফা প্লাবিত দীঘিনালা, নৌকায় পারাপার

টানা ভারী বর্ষণে আবারও প্লাবিত হয়েছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার নিম্নাঞ্চল। এক মাসের মধ্যে তৃতীয় দফায় বন্যার পানিতে উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচল।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে টানা মুষলধারে বৃষ্টির পর উপজেলার মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়তে শুরু করে। রাতভর বৃষ্টিতে শনিবার সকাল নাগাদ অনেক নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।
দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে উপজেলায় ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির পানি নেমে আসায় নিম্নাঞ্চলে প্লাবন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মেরুং ইউনিয়নের বাঁচা মেরুং স্টিল ব্রিজ এলাকায় পানি উঠে গেছে সড়ক ও ব্রিজের ওপর। এতে দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই সড়ক ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সড়কের কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয়দের নৌকায় করে পানির অংশ পার হতে দেখা গেছে। জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী মানুষকে এভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, কবাখালী ইউনিয়নের মাইনী ব্রিজসংলগ্ন কবরস্থান এলাকায় সড়কের ওপর পানি উঠলেও সেখানে পানির উচ্চতা তুলনামূলক কম। ফলে দীঘিনালা-সাজেক সড়কে যান চলাচল এখনও স্বাভাবিক রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বারবার প্লাবনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে কৃষি ও মৎস্য খাতে। বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি মাছের খামারে পানি ঢুকে পড়ায় মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন খামারিরা। এতে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে কৃষক ও মাছচাষিদের মধ্যে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাত্র এক মাসের মধ্যে তিন দফা প্লাবনের কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এক দফা পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই আবার ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নিম্নাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
তাদের অভিযোগ, বারবার প্লাবনের কারণে কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
স্থানীয়রা দ্রুত প্লাবিত এলাকার পানি নিষ্কাশন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ব্রিজগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মাছচাষিদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।








