পুশ-ইন ঠেকাতে মহেশপুর সীমান্তে সতর্ক বিজিবি, উদ্ধার মাদক

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে পুশ-ইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)। সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত বিজিবিকে জানানোর পাশাপাশি সব ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে সীমান্তে পৃথক দুটি অভিযানে ভারতীয় ৪৭ বোতল এসকুফ সিরাপ ও ৫০ প্যাকেট কীটনাশক উদ্ধার করেছে বিজিবি। তবে এসব ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কুসুমপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার চাপাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সীমান্তবাসীদের নিয়ে জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) এ সভার আয়োজন করে।
সভায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. রফিকুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি। এ সময় ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান, বেনীপুর বিওপি কমান্ডার, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং প্রায় ২৫০ জন এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মতবিনিময় সভায় বিজিবি অধিনায়ক বলেন, দেশের বিভিন্ন সীমান্তপথ ব্যবহার করে বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চলছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষকে আরও সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, সীমান্তের ওপারে বসবাসরত আত্মীয়-স্বজন কিংবা পরিচিতদের মাধ্যমে পুশ-ইন অথবা সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো ধরনের তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত বিজিবিকে জানাতে হবে। স্থানীয় জনগণ ও বিজিবি সমন্বিতভাবে কাজ করলে সীমান্তে এ ধরনের অপতৎপরতা প্রতিরোধ করা সহজ হবে।
বিজ্ঞাপন
সভায় বাংলাদেশ থেকে ভারতে সার পাচারের সম্ভাব্য বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। সার চোরাচালানের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে জানানোর জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
একই সঙ্গে মাদক, স্বর্ণ, গরু ও মানবপাচারসহ সীমান্তকেন্দ্রিক সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানায় বিজিবি। সীমান্ত অপরাধ রোধে স্থানীয়দের সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন কর্মকর্তারা।
মতবিনিময় সভায় সীমান্তবাসীদের বেশ কিছু বিষয়ে সতর্ক করা হয়। তাদের অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ না করা, সীমান্তের শূন্যলাইন অতিক্রম না করা, সন্ধ্যার পর সীমান্ত এলাকায় অপ্রয়োজনে অবস্থান না করা এবং শূন্যলাইনের কাছে গবাদিপশু না চরানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া ভারতীয় জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ না করার জন্যও স্থানীয়দের সতর্ক করেছে বিজিবি। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয়দের দায়িত্বশীল আচরণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযানও অব্যাহত রেখেছে ৫৮ বিজিবি। শনিবার (২৯ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, শুক্রবার দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে নতুনপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় এসকুফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত পিলার ৬৫/২-এস থেকে প্রায় ৭৫ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ধলু মিয়ার আমবাগানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নায়েব সুবেদার শ্রী তাপস কুমার কুম সরকারের নেতৃত্বে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর সময় আসামিবিহীন অবস্থায় ৪৭ বোতল ভারতীয় এসকুফ সিরাপ পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া একই দিন সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে উথলী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সীমান্ত পিলার ৭২/১-এস থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সন্তোষপুর গ্রামের পাকা রাস্তার পাশ থেকে ৫০ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক উদ্ধার করা হয়।
হাবিলদার মো. ইছাব্বর আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত নিয়মিত চোরাচালানবিরোধী অভিযানে এসব কীটনাশক উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে বিজিবি। তবে পৃথক দুটি অভিযানের কোনোটিতেই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইন, মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তবাসী সচেতন হলে অপরাধীদের কর্মকাণ্ড অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
বিজ্ঞাপন
সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক সভা ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন।








