হাজতে বসেই ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান

সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে আটক ১০ কিশোর-তরুণ থানা হাজতে বসে স্লোগান দিয়েছেন। তাদের স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার ভেতরে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে। ভিডিওটি ‘আজমেরী ওসমান’ নামে একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা হাজতের ভেতরে কীভাবে মুঠোফোন পেলেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রত্যাহার হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম ও কনস্টেবল জাহাঙ্গীর হোসেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক তরুণকে কিছু বক্তব্য দেওয়ার পর ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে শোনা যায়। এরপর হাজতে থাকা অন্য তরুণেরাও তার সঙ্গে একই স্লোগান দেন। পুরো ঘটনাটি মুঠোফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর আগে, গ্র্যান্ড চাঁদনী রেস্টুরেন্টের বিপরীতে ঢাকামুখী প্রধান সড়ক থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। তাদের একজন নগরীর পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং বাকিরা ফতুল্লার বিসিক এলাকার বাসিন্দা।
বিজ্ঞাপন
আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মামলা করা হয় এবং রোববার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয় বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন ফেরদৌস (১৮), আবরার আহম্মেদ (১৮), ইয়াসিন (১৮), রাব্বি (২০), শিমুল (২০) ও নয়ন (১৮)। এ ছাড়া বাকি চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া ও ফতুল্লার পঞ্চবটি বিসিক এলাকায়।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির পক্ষে মিছিলের প্রস্তুতির সময় শনিবার রাতে ওই ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের থানার হাজতখানায় রাখা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী আটকের বিষয়টি অভিভাবকদের ফোন করে জানানোর কথা।
বিজ্ঞাপন
ওসি মাহবুব আলম বলেন, থানার হাজতখানায় থাকা অবস্থায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এসআই মনিরুল ইসলাম সরল বিশ্বাসে তাদের মুঠোফোন ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন। কোনো এক ফাঁকে তারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির পক্ষে স্লোগান দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন এবং তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।
এদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।








