Logo

শেষ বয়সে একটু আশ্রয় আর দু’বেলা খাবার চান ছুরুতি খাতুন

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
জীবননগর, চুয়াডাঙ্গা
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩:১১
শেষ বয়সে একটু আশ্রয় আর দু’বেলা খাবার চান ছুরুতি খাতুন
ছবি: প্রতিনিধি

চোখে ঝাপসা দৃষ্টি, শরীরে বয়সের ভার। নিজের খাবারের সংস্থান করার মতো শক্তিও আর নেই। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ৮৯ বছর বয়সী মোসাম্মৎ ছুরুতি খাতুনের চাওয়া এখন খুবই সামান্য—একটি নিরাপদ ঘর আর দু’বেলা খাবারের নিশ্চয়তা।

বিজ্ঞাপন

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের প্রতাপপুর গ্রামের বাসিন্দা ছুরুতি খাতুন। প্রায় দুই দশক আগে স্বামীকে হারিয়েছেন তিনি। চার মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে একসময় তার সংসার ছিল পরিপূর্ণ। সন্তানদের ঘিরেই ছিল তার সুখ-দুঃখের জীবন।

তবে সময়ের নির্মমতায় একে একে নিঃস্ব হয়ে পড়েন তিনি। প্রায় আট বছর আগে খাদ্যনালীর সমস্যায় মারা যান তাকে দেখাশোনা করা এক মেয়ে। মেয়ের মৃত্যুর মাত্র তিন মাস পর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তার একমাত্র ছেলে সোহরাব।

সন্তান হারানোর পর ছুরুতি খাতুনের জীবন যেন আরও অন্ধকার হয়ে যায়। বর্তমানে নিজের বলতে তার কোনো জমিজমা নেই। নেই মাথা গোঁজার মতো একটি ঘরও। পরের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে কোনোভাবে দিন পার করছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

দূরসম্পর্কের এক ভাই মাঝেমধ্যে খাবার দিলে তা খেয়েই দিন কাটে। খাবার না পেলে অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হয় তাকে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই বৃদ্ধার পক্ষে অন্যের কাছে গিয়ে সাহায্য চাওয়াও সম্ভব হয়ে ওঠে না।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ছুরুতি খাতুন বলেন, লজ্জায় কারও কাছে হাত পেতে কিছু চাইতে পারেন না। নিজের অসহায়ত্বের কথা অনেকের কাছে জানিয়েছেন। কিন্তু এখনো স্থায়ীভাবে তার পাশে দাঁড়ানোর মতো কাউকে পাননি।

জীবনের শেষ সময়ে এসে তার চাওয়ার তালিকাও খুব ছোট। একটি ছোট ঘর, যেখানে নিরাপদে থাকতে পারবেন। আর এমন একটি ব্যবস্থা, যাতে জীবনের বাকি দিনগুলো অন্তত দু’বেলা খাবার খেয়ে শান্তিতে কাটাতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের মতে, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে এই বৃদ্ধার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা জরুরি। কোনো ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে তার শেষ বয়সের জীবন কিছুটা স্বস্তির হতে পারে।

স্বামী ও সন্তান হারিয়ে নিঃসঙ্গ ছুরুতি খাতুন এখন জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন। তার প্রয়োজন বিলাসিতা নয়, বড় কোনো স্বপ্নও নয়—একটি ঘর আর দু’বেলা খাবার। এই সামান্য চাওয়াটুকুই এখন তার বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD