মন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম ভোলায় পার্থ, পথে পথে সংবর্ধনা

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনী এলাকা ভোলায় তিন দিনের সফরে এসেছেন। তার আগমন ঘিরে বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে পথে পথে ব্যাপক সংবর্ধনা দিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ভোলার খেয়াঘাট, নতুন বাজার, কালীনাথ রায় বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে তাকে স্বাগত জানান। ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা হয়ে বেলা ১২টার দিকে বরিশাল পৌঁছান পার্থ। সেখান থেকে স্পিডবোটে ভোলার উদ্দেশে রওনা হলে খালের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ হাত নেড়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান।
দুপুর সোয়া ১টার দিকে ভোলার খেয়াঘাটে পৌঁছালে জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওসারসহ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেন।
পরে খেয়াঘাট থেকে উকিলপাড়ার বাসভবনে যাওয়ার পথে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষ ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মীরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঢোল-বাদ্য নিয়ে সড়কের পাশে অপেক্ষা করছিলেন।
বিজ্ঞাপন
দুপুর ২টার দিকে নতুন বাজার চত্বরে পৌঁছালে সেখানে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।
এ সময় তিনি বলেন, দেশে এখন গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে। আওয়ামী লীগ ১৭ বছরে দেশ পরিচালনার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির কোমর ভেঙে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিহাসের কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন। সেই পরিস্থিতি থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে।
ভোলা-বরিশাল সেতু প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোলার মানুষ এ সেতুর জন্য আন্দোলন করেছেন। এ দাবির বিষয়ে আমরা সবাই কাজ করেছি এবং সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পাশাপাশি ভোলা থেকে হিজলা, মুলাদী ও শরীয়তপুর হয়ে ঢাকায় যাওয়ার বিকল্প রুটও সরকার বিবেচনা করছে। এই পথে গেলে প্রায় ৪০ মিনিট সময় কম লাগতে পারে।
বিজ্ঞাপন
ভোলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি সরকারি মেডিকেল কলেজের জন্য ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা, নদীভাঙন রোধে ৭০০ কোটি টাকা এবং ভোলার সড়ক উন্নয়নে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ভোলায় সবচেয়ে বেশি উন্নয়নমূলক কাজ হবে। ভোলার উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আর কোনো মারামারি, হানাহানির রাজনীতি হবে না। টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজিও চলবে না। সবাই সহযোগিতা করলে তিনি ভোলার মানুষের জন্য কাজ করতে পারবেন।
পথসভা শেষে উকিলপাড়ার বাসভবনে পৌঁছালে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।








