Logo

স্ট্যান্ড রিলিজের পরও ফরিদপুরে যোগ দেননি পাবনার শিক্ষা কর্মকর্তা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
পাবনা
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:২২
স্ট্যান্ড রিলিজের পরও ফরিদপুরে যোগ দেননি পাবনার শিক্ষা কর্মকর্তা
ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্ট্যান্ড রিলিজের নির্দেশের পরও নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি পাবনা সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা শবনম। গত ১১ আগস্ট তাঁকে পাবনা সদর উপজেলা থেকে তৎক্ষণাৎ অবমুক্ত করা হলেও এখন পর্যন্ত ফরিদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগ দেননি তিনি

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার পাশাপাশি একাধিকবার বদলির আদেশ স্থগিত করার অভিযোগও রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সাবেক এক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্যের আত্মীয় হওয়ার সুবাদে তিনি দীর্ঘদিন প্রভাব খাটিয়ে বদলি ঠেকিয়ে রেখেছেন।

দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর চাকরিতে যোগ দেন সাঈদা শবনম। অন্য একটি উপজেলায় প্রায় দুই মাস দায়িত্ব পালনের পর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পাবনা সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন তিনি। এরপর থেকে প্রায় আট বছর ধরে একই কর্মস্থলে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সাবেক পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিরা ইয়াসমিন জলির ‘ছোট ভাইবউ’ পরিচয়ের কারণে শুরু থেকেই তিনি দপ্তরে প্রভাব বিস্তার করেন। এমনকি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকেও সপ্তাহে বা মাসে একদিন এসে বকেয়া হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাঈদা শবনমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

দপ্তর সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার পর ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সাঈদা শবনমকে পাবনা সদর উপজেলা থেকে ফরিদপুর উপজেলায় বদলি করা হয়। তবে ওই আদেশ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।

পরে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কারণ দেখিয়ে বদলির আদেশটি আবারও ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয় বলে দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এরপর প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসন গত ৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তাঁকে পুনরায় পাবনা সদর থেকে ফরিদপুর উপজেলায় বদলির আদেশ দেয়। আদেশে ১০ আগস্টের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় ১১ আগস্ট থেকে তাঁকে ‘তৎক্ষণাত অবমুক্ত’ বা স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য করার কথা উল্লেখ করা হয়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরিদপুরে যোগদান না করায় ১১ আগস্ট তাঁকে পাবনা সদর উপজেলা অফিস থেকে অবমুক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে সাঈদা শবনম বলেন, “আমি বদলির আদেশ সংশোধন করার চেষ্টা করছি। এ কারণে ফরিদপুর উপজেলায় যোগদান করিনি।”

পাবনা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাফিয়া আক্তার অপু বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিকবার বদলির আদেশ এলেও তা স্থগিত হয়ে যাচ্ছিল। তবে সর্বশেষ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ১১ আগস্ট তাঁকে পাবনা সদর অফিস থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি জানিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ফরিদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খ. ম. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা শবনমকে ফরিদপুরে যোগদানের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি এখন পর্যন্ত সেখানে যোগ দেননি। এমনকি তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগও হয়নি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার স্বল্পতার কারণে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। বর্তমানে মাত্র একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে পুরো উপজেলার কাজ চালাতে হচ্ছে। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

পাবনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর বলেন, সাঈদা শবনমের বদলির আদেশ অতীতে একাধিকবার স্থগিত হলেও এবার তাঁকে পাবনা সদর থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে। ফরিদপুর উপজেলায় যোগদানের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তিনি এখনো সেখানে যোগ দেননি।

তিনি আরও বলেন, তাঁকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সরকারি আদেশ অমান্যের বিষয়টি তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

স্ট্যান্ড রিলিজের পরও নতুন কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ার ঘটনায় পাবনার শিক্ষা অঙ্গনে কর্মকর্তাটির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের একাংশ দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রশাসনিক ও বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD