তজুমদ্দিনে ৮ হাজার কেজি ইউরিয়া সার জব্দ, ডিলারের দাবি বৈধ

ভোলার তজুমদ্দিনে পাচার সন্দেহে ১৬০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ একটি স্টিলবডি ট্রলার জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। জব্দ করা সারের পরিমাণ ৮ হাজার কেজি এবং আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তবে সারগুলো বৈধভাবে বিক্রি করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট বিসিআইসি সার ডিলার।
বিজ্ঞাপন
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে তজুমদ্দিনের চরমোজাম্মেল মুক্তিযোদ্ধা বাজারসংলগ্ন মেঘনা নদীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড স্টেশন তজুমদ্দিনের একটি দল।
অভিযানের সময় নদীতে সন্দেহজনক একটি স্টিলবডি ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে ১৬০ বস্তা ইউরিয়া সার পাওয়া যায়। কোস্ট গার্ডের দাবি, সারগুলো অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল। এ সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রলারে থাকা ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জব্দ করা ইউরিয়া সার ও স্টিলবডি ট্রলারের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে জব্দ হওয়া সার পাচারের জন্য নেওয়া হচ্ছিল—এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিসিআইসি সার ডিলার মোশাররফ হোসেন দুলাল। তার দাবি, চরমোজাম্মেল এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে বৈধভাবে এসব সার বিক্রি করা হয়েছিল।
মোশাররফ হোসেন দুলাল বলেন, ৪ সেপ্টেম্বর চরমোজাম্মেল এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে প্রায় ২০০ বস্তা সার বিক্রি করা হয়। ব্যবসায়ীরা একত্র হয়ে পরিবহনের সুবিধার্থে একটি স্টিলবডি বোটে সারগুলো নিয়ে যাচ্ছিলেন। চরের মুক্তিযোদ্ধা বাজারের ঘাট থেকে কোস্ট গার্ড সারগুলো জব্দ করে। এ সংক্রান্ত ক্যাশমেমোও সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রলারে থাকা শ্রমিকরা ভয়ে পালিয়ে যান।
বিজ্ঞাপন
তজুমদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম বলেন, উপজেলায় পাঁচজন বিসিআইসি সার ডিলার রয়েছেন। জব্দ করা ১৬০ বস্তা ইউরিয়া সার মেসার্স মোশাররফ হোসেনের কাছ থেকে চরের ১০ থেকে ১২ জন বিক্রেতা ক্যাশমেমোর মাধ্যমে কিনেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। পরিবহনের সুবিধার্থে তারা একটি বোটে করে সারগুলো নিয়ে যাচ্ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে। কোথাও কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








