Logo

খাগড়াছড়িতে ডেপুটেশন প্রথা বাতিলের দাবি, তীব্র শিক্ষক সংকট

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
পানছড়ি, খাগড়াছড়ি
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫:৫৩
খাগড়াছড়িতে ডেপুটেশন প্রথা বাতিলের দাবি, তীব্র শিক্ষক সংকট
ছবি: সংগৃহীত

খাগড়াছড়ির দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকায় শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট দূর করতে পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে চালু থাকা ‘ডেপুটেশন প্রথা’ বাতিলের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুবিধাজনক কর্মস্থলে ডেপুটেশনে শিক্ষক পদায়নের কারণে দুর্গম ও সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষককে মূল কর্মস্থল থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক বা পছন্দের বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে পদায়ন করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য কয়েকজন শিক্ষক মূল কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন না করে অন্য বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে রয়েছেন। এতে তাঁদের মূল কর্মস্থলের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ অনুযায়ী, তানজিনা আক্তার পারুলের মূল কর্মস্থল ছোট পানছড়ি উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হলেও তিনি ডেপুটেশনে রয়েছেন উবাই প্র চৌধুরী হাছান নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। চাহিদা রহমানের মূল কর্মস্থল বড় পানছড়ি দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কৃতীকা ত্রিপুরার মূল কর্মস্থল কারিগরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তাঁদের মতো আরও অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা ডেপুটেশনে রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ডেপুটেশন প্রথার কারণে শিক্ষক সংকটের প্রভাব পড়েছে পানছড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। সম্প্রতি বিদ্যালয়টিতে আয়োজিত এক অভিভাবক সমাবেশে শিক্ষক সংকট নিয়ে অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপাশা সরকার জানান, বিদ্যালয়ে এমনিতেই শিক্ষক সংকট রয়েছে। এর মধ্যে আরও দুজন শিক্ষককে ডেপুটেশনে অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। দ্রুত শিক্ষক সংকটের সমাধান না হলে বিদ্যালয়টির শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা নাসরিন বলেন, পানছড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের বিষয়টি তিনি অবগত রয়েছেন। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

স্থানীয়দের পক্ষ থেকে পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তাঁদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সুবিধাকেন্দ্রিক ও অযৌক্তিক ডেপুটেশন বাতিল করে শিক্ষকদের নিজ নিজ মূল কর্মস্থলে ফেরত পাঠানো, দুর্গম, সীমান্তবর্তী ও গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং উপজেলা ও জেলা শিক্ষা প্রশাসনের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোতে কঠোর তদারকি জোরদার করা।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। ডেপুটেশন প্রথার অপব্যবহার বন্ধ করে শিক্ষকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD