শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে সাগরে ডুবে প্রাণ গেল শামীমের

স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবার শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে সাগরে পড়ে নিখোঁজ হন ভোলার যুবক মোহাম্মদ শামীম। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা লঞ্চঘাটে বোটে ওঠার সময় পানিতে পড়ে যাওয়ার প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর রোববার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মগনামা লঞ্চঘাটসংলগ্ন সাগর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল শামীমের মরদেহ উদ্ধার করে।
এর আগে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে মগনামা ইউনিয়নের লঞ্চঘাট এলাকায় কুতুবদিয়াগামী একটি ডেনিস বোটে ওঠার সময় অসাবধানতাবশত সাগরের পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন তিনি।
নিহত মোহাম্মদ শামীম ভোলার বাসিন্দা মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের একটি শিপিং কোম্পানিতে চাকরি করতেন। প্রায় এক বছর আগে কুতুবদিয়ার করিনা বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্ত্রীকে নিয়ে এবারই প্রথম কুতুবদিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছিলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
শামীমের স্ত্রী করিনা বেগম জানান, তিনি চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। অসুস্থ থাকায় স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়ি কুতুবদিয়ায় যাচ্ছিলেন। মগনামা লঞ্চঘাটে বোটে ওঠার সময় তার চোখের সামনেই পানিতে পড়ে যান শামীম।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে করিনা বলেন, আমার স্বামী সাঁতার জানতেন। কিন্তু পানিতে পড়ার পর খুব দ্রুত ডুবে যান। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
মগনামা লঞ্চঘাটের ইজারাদার নুরুল ইসলাম বলেন, বোটে ওঠার সময় অসাবধানতাবশত ওই যুবক পানিতে পড়ে যান। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
পেকুয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দলের সদস্যরা সমন্বিতভাবে নিখোঁজ যুবককে উদ্ধারে কাজ করেন।
তিনি বলেন, সন্ধ্যা নেমে আসায় শনিবার রাতে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। রোববার সকালে পুনরায় অভিযান শুরু করা হলে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি স্থান থেকে শামীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইমরুল হাসান জানান, মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহটি থানায় নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবার শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সেই যাত্রা শেষ হলো সাগরের পানিতে। শামীমের আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।








