স্ত্রীর চোখের সামনেই পানিতে পড়ে নিখোঁজ স্বামী

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা জেটিঘাটে বোটে ওঠার সময় পানিতে পড়ে শামীম নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তার স্ত্রী করিমা আক্তার ঘটনাস্থলেই ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
নিখোঁজ শামীম ভোলা জেলার বাসিন্দা মোসলে উদ্দিনের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম শহরে স্ত্রী করিমা আক্তারকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং একটি শিপিং কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী করিমা একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের পর প্রায় এক বছর আগে শামীম ও করিমার বিয়ে হয়। করিমা অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে বাবার বাড়িতে রেখে আসতে শনিবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে দুজন কুতুবদিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। মগনামা জেটিঘাটে পৌঁছে কুতুবদিয়া যাওয়ার বোটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তারা।
দুপুরের দিকে বোট ঘাটে এলে শামীম ও করিমা সিঁড়ি দিয়ে বোটে ওঠার জন্য এগিয়ে যান। এ সময় হঠাৎ পা পিছলে পানিতে পড়ে যান শামীম। বিষয়টি দেখতে পেয়ে বোটের মাঝি আমির হামজা সঙ্গে সঙ্গে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
খবর পেয়ে পেকুয়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে তাদের সঙ্গে ডুবুরি দল না থাকায় পানিতে নিখোঁজ শামীমকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
শামীমের স্ত্রী করিমা আক্তারের বড় বোন রহিমা বেগম বলেন, করিমা অসুস্থ হওয়ায় তাকে বাবার বাড়িতে রেখে আসার জন্য শামীম তাকে নিয়ে কুতুবদিয়া যাচ্ছিলেন। ঘাটের সিঁড়িতে দুজন পাশাপাশি বসে বোটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। বোটে ওঠার সময় হঠাৎ শামীম পানিতে পড়ে যান। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
করিমার প্রতিবেশী ইসমত আরা বলেন, সকালে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য পেকুয়ায় গিয়েছিলেন তিনি। পরে কুতুবদিয়ার বাড়িতে ফেরার জন্য মগনামা জেটিঘাটে এসে করিমাকে দেখতে পান। পরে জানতে পারেন, নদীতে পড়ে তার স্বামী নিখোঁজ হয়েছেন।
মগনামা জেটিঘাটের ইজারাদার নুরুল ইসলাম বলেন, দুপুরের দিকে ঘাটের সিঁড়ি থেকে এক যুবক পানিতে পড়ে যান। তখন সাগরে ভরা জোয়ার ছিল। এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। ঘাটে কোনো ডুবুরি দল না থাকায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এলেও ডুবুরি না থাকায় উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি।
পেকুয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শফিউল আলম বলেন, উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। কিন্তু তাদের কাছে ডুবুরি না থাকায় নিখোঁজ ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পানিতে ডুবে থাকা অবস্থায় তাকে খুঁজে বের করতে ডুবুরি প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
শামীম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। দ্রুত ডুবুরি দল এনে নিখোঁজ যুবককে উদ্ধারে অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।








