বিয়েতে নাচের কথা বলে ২ নৃত্যশিল্পীকে মাঝনদীতে নিয়ে ধর্ষণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের কথা বলে দুই নৃত্যশিল্পীকে নৌকায় তুলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হওয়ার পর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় তিতাস নদীর মাঝখানে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দুই নারী কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার বাসিন্দা। তারা চুক্তির ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নৃত্য পরিবেশন করে থাকেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফেসবুক পেজ থেকে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে রাকিব মিয়া নামে এক যুবক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শাহবাজপুর এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের জন্য তাদের ডাকা হয়।
৯ হাজার টাকা পারিশ্রমিকের চুক্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই নৃত্যশিল্পী সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে রাকিব ও তার সহযোগীরা তাদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শাহবাজপুরের একটি সেতুর নিচে নিয়ে যান।
বিজ্ঞাপন
পরে দ্রুত বিয়ের অনুষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাদের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তোলা হয়। নৌকাটি নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে চালক ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন। এরপর দুই নৃত্যশিল্পীকে নৌকার ছাউনির ভেতরে নিয়ে রাকিবসহ তার সহযোগীরা সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন। তাদের সঙ্গে থাকা এক পুরুষ সদস্য বাধা দিতে গেলে আসামিরা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এজাহার অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নদীর মাঝখানে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৮টার দিকে ভুক্তভোগীদের নাসিরনগর উপজেলার কুণ্ডা তিতাস নদীসংলগ্ন ভুঁইয়া ঘাট এলাকায় নামিয়ে দিয়ে চলে যান অভিযুক্তরা।
বিজ্ঞাপন
এরপর আইনি সহায়তার জন্য ভুক্তভোগীরা প্রথমে নাসিরনগর থানায় যান। তবে ঘটনাস্থল সরাইল থানার অধীন হওয়ায় তাদের সেখানে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম বলেন, অপরাধের ঘটনাস্থল সরাইল থানার আওতাধীন হওয়ায় ভুক্তভোগীদের সরাইল থানায় গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল।
পরে বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। মামলায় রাকিব মিয়াকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। অন্যদের গ্রেপ্তারের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।








