Logo

রুহিয়া-ঠাকুরগাঁও সড়কে খানাখন্দ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫:২৩
রুহিয়া-ঠাকুরগাঁও সড়কে খানাখন্দ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
ছবি: প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থেকে জেলা শহরে যাতায়াতের প্রধান সড়কটির বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। কোথাও কোথাও গর্তে জমে থাকছে বৃষ্টির পানি। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।

বিজ্ঞাপন

রুহিয়া থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের দূরত্ব প্রায় ২১ কিলোমিটার। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি শুধু রুহিয়া উপজেলার বাসিন্দারাই নয়, পাশের আটোয়ারী উপজেলার মানুষও নিয়মিত ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিকিৎসাসহ নানা প্রয়োজনে এ সড়ক দিয়ে জেলা শহরে যাতায়াত করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, রুহিয়ার পুরোনো পল্লী বিদ্যুৎ অফিস, মধুপুর ও কালীতলা বাজার থেকে ঠাকুরগাঁওমুখী সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ রয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে সাইকেল, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহনের চালকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষার্থী ও পথচারীরা।

এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দূরপাল্লার নাইট কোচ, হানিফ ও নাবিল পরিবহনের বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। রুহিয়া ও আশপাশের এলাকার উৎপাদিত শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্যবাহী যানও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেতে এই সড়ক ব্যবহার করে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের মতে, ব্যস্ততম এই সড়কটির প্রস্থ তুলনামূলক কম। এর ওপর বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা অংশ ও খানাখন্দ থাকায় যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বাড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পথযাত্রীদের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে সড়কের কিছু অংশে সংস্কার করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কয়েকদিন পরই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় সড়ক। তাদের দাবি, টেকসইভাবে সংস্কারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্থানগুলোতে সড়ক প্রশস্ত করা হলে যোগাযোগব্যবস্থা আরও নিরাপদ ও স্বাভাবিক হবে।

রুহিয়া কালীতলা বাজারের এক দোকানদার বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করে। রাস্তার খানাখন্দের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেল ও সাইকেল চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরাও অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়।

বিজ্ঞাপন

ঢোলারহাট এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, সড়কটি অনেক জায়গায় সরু এবং বিভিন্ন স্থানে খুবই খারাপ। কিছুদিন আগে এ সড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে আমরা রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছি।

স্থানীয়রা জানান, রুহিয়া থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সড়কটির বিকল্প তেমন নেই। তাই দ্রুত খানাখন্দ মেরামত, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় জায়গায় সড়ক প্রশস্ত করে টেকসই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সড়ক বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ্ মো. আসিফ বলেন, বর্ষার পানি জমে থাকার কারণে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় গর্ত সৃষ্টি হয় এবং রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব গর্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থান সংস্কার করব। পাশাপাশি পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে, যাতে মানুষ ও যানবাহন সহজে চলাচল করতে পারে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD