মনিরামপুরে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক ইকরামুল আটক

যশোরের মনিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে তাকে আটক করেছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইকরামুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তার কথায় রাজি না হলে শিক্ষার্থীদের স্পর্শকাতর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। লোকলজ্জা ও হুমকির কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে পারেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একাধিকবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘদিনেও অভিযোগের সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম বিদ্যালয়ে গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে ক্লাস বর্জন শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গণ-অনশনে বসেন।
বিজ্ঞাপন
খবর পেয়ে দ্রুত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন, মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাইদ এবং ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙেন।
বিজ্ঞাপন
পরে মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে তার ছোট ছেলে এনজেল পারভেজ রিফাত বাদী হয়ে শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে মনিরামপুর থানায় মামলা করেন।
মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ করে রাখা ও অনশনের খবর পেয়ে তারা দ্রুত বিদ্যালয়ে যান। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্য শোনার পর অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
মনিরামপুর থানার ওসি আবু সাইদ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন।








