শ্রীনগরে পুকুরে মুরগির বর্জ্য, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে পাঙ্গাস মাছের খাবার হিসেবে পুকুরে মুরগির নাড়ি-ভুড়ি, ছাল ও পাখনা ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এসব বর্জ্য পচে হাঁসাড়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দিরে আসা মানুষসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে গোলাম মোস্তফা বিল্টু নামের এক ব্যক্তি হাঁসাড়া বাজারসংলগ্ন পুকুরে এসব মুরগির বর্জ্য ফেলছেন। প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও দাবি স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাঁসাড়া বাজারসংলগ্ন প্রায় দুই একর আয়তনের পুকুরটিতে বেশ কিছু পচে যাওয়া মুরগির নাড়ি-ভুড়ি, ছাল ও পাখনা ভাসছে। তীব্র রোদ ও গরমে এসব বর্জ্য দ্রুত পচে যাওয়ায় দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়েছে।
পুকুরটির উত্তর পাশে রয়েছে কয়েকশ দোকান নিয়ে হাঁসাড়া বাজার। দক্ষিণ পাশে আল এহসান গার্লস স্কুল, পূর্ব পাশে একটি মন্দির, বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদ ও কয়েকটি বসতবাড়ি রয়েছে। পশ্চিম পাশেও রয়েছে প্রায় আটটি পরিবারের বসতবাড়ি।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন বাজারে আসা হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতা, বিদ্যালয়ের প্রায় চার শতাধিক ছাত্রী, মসজিদ ও মন্দিরে আসা মানুষ এবং আশপাশের বাসিন্দারা দুর্গন্ধের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। দীর্ঘসময় এই পরিবেশে অবস্থান করায় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও করছেন তারা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
হাঁসাড়া বাজার কমিটির সভাপতি মো. হারুন মোল্লা বলেন, প্রতিদিন পুকুরটিতে কয়েক মণ মুরগির নাড়ি-ভুড়ি, ছাল ও পাখনা ফেলা হয়। এসব বর্জ্য পচে যে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়, তা বাজার, স্কুল, মসজিদ ও মন্দিরে আসা মানুষের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, দুর্গন্ধের কারণে বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিও কমে গেছে। বিষয়টি সমাধানে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে পাঙ্গাস মাছের চাষি গোলাম মোস্তফা বিল্টু নিজেকে মুন্সীগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সহ-সভাপতি পরিচয় দিয়ে বলেন, পুকুর পরিষ্কারই রাখি। আসলে তেমন দুর্গন্ধ নেই।
এ বিষয়ে শ্রীনগর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। উপজেলার সভায় তা উত্থাপন করা হবে।








