Logo

উত্তাল পদ্মায় বন্ধ ফেরি চলাচল, ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে পারাপার

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
রাজবাড়ী
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩:২৫
উত্তাল পদ্মায় বন্ধ ফেরি চলাচল, ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে পারাপার
ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ও পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌপথে তীব্র স্রোতের কারণে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে ফেরি চলাচল। এতে বাধ্য হয়ে উত্তাল পদ্মা নদী ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও স্পিডবোটে পার হচ্ছেন যাত্রীরা। ফেরি বন্ধ থাকায় এসব নৌযানে বেড়েছে ভাড়াও। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের পাশাপাশি বাড়তি ভাড়ার চাপেও পড়েছেন যাত্রীরা।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্র জানায়, ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌপথে ‘ক্যামেলিয়া’ ও ‘কপোতী’ নামে দুটি ফেরি চলাচল করে। ধাওয়াপাড়া ঘাট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০টি যানবাহন পারাপার হয়। নাজিরগঞ্জ ঘাট দিয়েও রাজবাড়ীর দিকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহন চলাচল করে।

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত ২৩ জুলাই থেকে ‘কপোতী’ ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরে পদ্মায় স্রোত বেড়ে যাওয়ায় গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে ‘ক্যামেলিয়া’ ফেরির চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে পুরো নৌপথে ফেরি পারাপার বন্ধ হয়ে যায়।

ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় এ রুটের যানবাহনগুলোকে কুষ্টিয়ার লালন শাহ সেতু হয়ে ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের ভোগান্তি বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

ধাওয়াপাড়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, পন্টুনের সঙ্গে মোটা রশি দিয়ে বাঁধা রয়েছে ‘ক্যামেলিয়া’ ফেরি। ঘাটের পাশে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। এসব নৌযানে মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন পণ্যও পরিবহন করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

স্পিডবোটে থাকা কয়েকজন যাত্রীর শরীরে লাইফ জ্যাকেট দেখা গেলেও ট্রলারের যাত্রীদের অধিকাংশের শরীরে তা ছিল না। ট্রলারের সামনে কাঠের টেবিল বসিয়ে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। ছাপানো টিকিটে ট্রলার ভাড়া ৮০ টাকা এবং স্পিডবোটের ভাড়া ১৫০ টাকা উল্লেখ রয়েছে। মোটরসাইকেল পারাপারে নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা।

ট্রলারে অপেক্ষমাণ কয়েকজন যাত্রী জানান, স্বাভাবিক সময়ে জনপ্রতি ট্রলার ভাড়া ছিল ৫০ টাকা এবং স্পিডবোটে ১০০ টাকা। ফেরি চালু থাকলে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ছিল ৩০ টাকা। বর্তমানে ট্রলারে ৮০ টাকা ও স্পিডবোটে ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে ট্রলারে ওঠার জন্য অতিরিক্ত পাঁচ টাকা দিতে হচ্ছে।

রবিউল ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, ফেরি বন্ধ থাকায় পদ্মা পার হতে এখন ট্রলার ও স্পিডবোটই ভরসা। কিন্তু নদী উত্তাল থাকায় এসব নৌযানে পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নদী পার হওয়ার সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। একই সঙ্গে আগের তুলনায় ভাড়াও বেড়েছে। দ্রুত ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হলে যাত্রীদের ভোগান্তি ও ঝুঁকি দুটোই কমবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বাড়তি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে ট্রলার ও স্পিডবোটচালকরা বলেন, নদীতে স্রোত বেশি থাকায় পারাপারে বেশি সময় লাগছে। পাশাপাশি জ্বালানি খরচও বেড়েছে। এ কারণে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিআইডব্লিউটিসির ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম বলেন, তীব্র স্রোতের কারণে ফেরির ইঞ্জিন ওভারহিট হচ্ছে। এ অবস্থায় ফেরি চালানো হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD