Logo

নিবন্ধন নেই, প্রশিক্ষণও নেই; শেরপুর মহাসড়কে ৩ হাজার অটোরিকশা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
শেরপুর, বগুড়া
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২
নিবন্ধন নেই, প্রশিক্ষণও নেই; শেরপুর মহাসড়কে ৩ হাজার অটোরিকশা
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের আইনি সুযোগ না থাকলেও বগুড়ার শেরপুরে মহাসড়কজুড়ে অবাধে চলছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলার। শহর ও আশপাশের এলাকায় এসব যানবাহনের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। তাদের বেশির ভাগ চালকের কোনো প্রশিক্ষণ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও অটোরিকশা চালাতে দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

মহাসড়কে দ্রুতগতির বাস ও ট্রাকের সঙ্গে ধীরগতির এসব যান চলাচল করায় গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে তৈরি হচ্ছে যানজট। অনেক সময় অটোরিকশা উল্টো পথে এসে মহাসড়ক পার হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। পাশাপাশি নিবন্ধন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের বাইরে থাকায় সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শেরপুর শহরের ধুনট মোড়, বাসস্ট্যান্ড, উপজেলা মোড় ও কলেজ রোড এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের ওপর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। ধুনট মোড় ও উপজেলা মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউটার্নে কয়েকটি অটোরিকশাকে বিপরীত দিক থেকে এসে মহাসড়ক পার হতে দেখা যায়। একই সময়ে দ্রুতগতির বাস ও ট্রাক চলাচল করায় সেখানে সংঘর্ষের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শামিম বলেন, ধুনট মোড় ও উপজেলা মোড় মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ দুটি ইউটার্ন। ছোট যানবাহনের জন্য আলাদা লেন না থাকায় অটোরিকশাগুলো অনেক সময় উল্টো দিক দিয়ে এসে সড়ক পার হয়। এতে যানজটের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হতে হয়। কখনো কখনো অ্যাম্বুলেন্সও যানজটে আটকে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

শেরপুর শহর রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন সমিতির সেক্রেটারি মাহমুদুল হাসান (লিটন) বলেন, শেরপুর শহরে তিন হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলার রয়েছে। এসব চালকের অধিকাংশেরই প্রশিক্ষণ নেই। তারা সড়কের নিয়মকানুনও ভালোভাবে জানেন না। ফলে সড়কে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, হঠাৎ করে যে কেউ যাতে রাস্তায় অটোরিকশা নিয়ে নামতে না পারেন, সে জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে প্রকৃত চালকদের কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অটোরিকশাগুলোকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনাই তাদের লক্ষ্য।

সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শেরপুরে পর্যাপ্ত গণপরিবহন না থাকায় স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অটোরিকশার ওপর নির্ভরশীলতা রয়েছে মানুষের। অন্য অনেক কাজের তুলনায় অটোরিকশা চালানো সহজ হওয়ায় অনেকেই এ পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। এতে দিন দিন বাড়ছে অটোরিকশার সংখ্যা।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের মতে, এসব যান মহাসড়কে চলাচল করায় দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ইউটার্ন এলাকায় অটোরিকশার জটলা থেকে যানজট তৈরি হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিয়ম অনুযায়ী, সড়কে বৈধভাবে যানবাহন চালাতে নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, বীমা এবং চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে হয়। তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিবন্ধনের আওতার বাইরে থাকায় এসব যানবাহনের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিবন্ধন ও সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কাঠামো কার্যকর নয়। ফলে এ খাত থেকে সরকার সম্ভাব্য রাজস্বও পাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে সারাদেশে থ্রি-হুইলার দুর্ঘটনায় ৭৮ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে বগুড়ায় সর্বোচ্চ ৩৭ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে সংগঠনটি। এর আগে জুলাইয়ে ১৩১টি থ্রি-হুইলার দুর্ঘটনায় ৯৪ জন এবং জুনে ১১২ জন যাত্রী নিহত হন।

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে। অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত যান সার্ভিস লেন দিয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে অনেক জায়গায় সার্ভিস লেন না থাকায় এসব যান মূল সড়কে উঠে আসে। মহাসড়কের অটোরিকশা স্ট্যান্ডগুলোতে মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হয়। উপজেলা ও ধুনট ইউটার্নে নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে বলেও জানান তিনি।

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, শেরপুর শহর জনবহুল এলাকা হওয়ায় এখানে প্রচুর অটোরিকশা চলাচল করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উল্টো পথে চলাচল ও সড়কের নিয়ম না মানার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হাইওয়ে পুলিশকে বলা হবে। পাশাপাশি শৃঙ্খলা ফেরাতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

বগুড়া শহরের যানজট কমাতে অটোরিকশাকে লাল ও সবুজ—দুই রঙে ভাগ করে এক দিন পরপর চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শেরপুরেও এ ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, উদ্যোগটি ভালো। শেরপুরে তা বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ৮ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রাবিউল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের কোনো আইনি সুযোগ নেই। এসব যানবাহনের সঙ্গে যুক্ত মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থান এবং শৃঙ্খলিত ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD