Logo

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, শিবির নেতার বাড়িতে আগুন

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
বাঘা, রাজশাহী
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:৫৯
প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, শিবির নেতার বাড়িতে আগুন
ছবি প্রতিনিধি।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কিশোরপুর গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাবেক শিবির নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরপুর শেখপাড়া এলাকায় পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করেন হাফিজ ও রিকসোনা। রিকসোনার স্বামী কালু মাতব্বর এবং বড় ছেলে উসমান মালয়েশিয়ায় প্রবাসী। রিকসোনা তার ছেলে আবু বক্কর ও দুই ছেলের বউকে নিয়ে নিজ বাড়িতে থাকেন। অন্যদিকে পাশের বাড়িতে বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন হাফিজ।

জানা যায়, হাফিজ ও তার পরিবারের সদস্যরা এক যুগেরও বেশি সময় আগে বাঘা উপজেলার আতারপাড়া চর এলাকায় বসবাস করতেন। পরে তারা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের কিশোরপুর শেখপাড়া এলাকায় বসতি স্থাপন করে সেখানে বসবাস শুরু করেন। রিকসোনা সম্পর্কে হাফিজের ফুফু বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, পাশাপাশি বাড়িতে বসবাসের সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে হাফিজ ও রিকসোনার মধ্যে গোপনে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শুক্রবার রাতে রিকসোনার ছেলে আবু বক্করের অনুপস্থিতির সুযোগে হাফিজ তার বাড়িতে যান।

বিজ্ঞাপন

পরে রাত ১১টার দিকে রিকসোনার সঙ্গে হাফিজের অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে ফেলে ছেলে আবু বক্কর। এরপর তিনি হাফিজকে মারধর করেন। এতে গুরুত্বর আহত হোন তিনি। তবে দাবী করা হয়েছে জানালা ভেঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার সময় আহত হয় হাফিজ। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জনান, হাফিজুর রহমান হাফিজ রাজশাহী কলেজ শাখার ইসলামী ছাত্র শিবিরের দায়িত্বশীল পদে ছিলেন।

পাকুড়িয়া ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী নবিউল ইসলাম নবী জানান, সে রাজশাহী জেলায় ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও বাঘা উপজেলায় শিবির কিংবা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, অভিযুক্ত হাফিজ রাজশাহী ইবনে সিনা হাসপাতালে চাকরী করতেন বলে শুনেছি। গুরুত্বর আহতের পর তাকে রাজশাহী ইবনে সিনা হাসপাতাল থেকে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। হাতের রগ কেটে যাওয়ায় অবস্থা গুরুত্বর বলে জানা গেছে। সেখানে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল বলে শুনেছি।

এদিকে ঘটনার জের ধরে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে আবু বক্করসহ বিক্ষুব্ধ কয়েকজন হাফিজের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আগুনে ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার বিকেলে সরেজমিনে হাফিজ ও রিকসোনার বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। রিকসোনার বাড়ি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। অন্যদিকে হাফিজের বাড়ির দুটি কক্ষ থেকে আগুনের ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। পরবর্তীতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সজল, আরিফসহ অনেকেই জানান, অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে ফেলে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে হাফিজকে কুপিয়ে জখম করে আবু বক্কর। আবার কেউ বলছেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় আহত হয়েছে হাফিজ। ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক জানান, পরবর্তীতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD