সাপাহারে ১৮৫ দলের অংশগ্রহণে বর্ণিল কারাম উৎসব

নওগাঁর সাপাহারে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা ১৮৫টি দলের গান, নৃত্য ও লোকজ পরিবেশনায় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার মদনশিং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ পরিণত হয় প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।
বিজ্ঞাপন
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, সাপাহার উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, জীবনধারা ও লোকজ বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে বিভিন্ন দল তাদের নিজস্ব পরিবেশনায় গান ও নৃত্য পরিবেশন করে দর্শকদের আনন্দ দেয়।
কারাম উৎসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক আয়োজন। কৃষি, প্রকৃতি, সামাজিক বন্ধন এবং সম্প্রদায়ের কল্যাণকামনার সঙ্গে ঐতিহ্যগতভাবে সম্পৃক্ত এ উৎসবের মধ্য দিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা গান, নৃত্য, আচার ও লোকজ সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত করতেও এ উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান। জাতীয় আদিবাসী পরিষদ সাপাহার উপজেলা শাখার সভাপতি স্বপন কুজুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা রিয়াজসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী ফরিদা বেগম, উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান টকি, এলজিইডি কর্মকর্তা তাহাজ্জদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী (বেনু), সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান চৌধুরী (লাবু), সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম, সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন, আব্দুর রহমান (কল্লোল), মিজানুর রহমান শাহ্ চৌধুরী এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোকলেছুর রহমান (মুকুল)।
এ ছাড়া উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
১৮৫টি দলের অংশগ্রহণে মদনশিং মাঠে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন এলাকার দলগুলোর গান ও নৃত্যে ফুটে ওঠে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক জীবন ও সমৃদ্ধ লোকজ ঐতিহ্য। উৎসব ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক আগ্রহ।
আয়োজকেরা বলেন, কারাম উৎসবের মতো আয়োজন নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শেকড় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। বিভিন্ন এলাকার মানুষের অংশগ্রহণে এ ধরনের আয়োজন পারস্পরিক সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে।
উৎসবের শেষপর্বে বিজয়ী দলগুলোর পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলের মধ্যেও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।








