Logo

কোটি টাকার সেতুতে উঠতে বাঁশের সিঁড়িই ভরসা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
শরীয়তপুর
১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:০৯
কোটি টাকার সেতুতে উঠতে বাঁশের সিঁড়িই ভরসা
ছবি: সংগৃহীত

নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে কোটি টাকা ব্যয়ের পাকা সেতু। কিন্তু সেতুর এক প্রান্তে নেই সংযোগ সড়ক। ফলে সেতুতে উঠতে স্থানীয়দের ভরসা এখন বাঁশ-কাঠের নড়বড়ে সিঁড়ি। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার থিরোপাড়া এলাকায় পদ্মার শাখা হুগলি নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন পাঁচ ইউনিয়নের হাজারো মানুষ।

বিজ্ঞাপন

সামান্য অসতর্ক হলেই নদীতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও বয়স্ক মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি পুরোপুরি চালু করা হোক। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও উপজেলা প্রশাসন।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে হুগলি নদীর থিরোপাড়া এলাকায় সেতু নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। ৯০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ২০২১ সালে কাজ শুরু হয়ে ২০২৬ সালে সেতুর নির্মাণ শেষ হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পের আওতায় সেতুর পাশাপাশি প্রায় ২৮০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের কথা রয়েছে। তবে সেতুর উত্তর পাশের সড়কের কাজ শেষ হলেও দক্ষিণ পাশের অংশটি জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে আছে।

নিরাপদ কোনো বিকল্প পথ না থাকায় স্থানীয়রাই বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী সিঁড়ি তৈরি করেছেন। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে সেটিও এখন অনেকটা জরাজীর্ণ। প্রতিদিন ওই সরু সিঁড়ি দিয়ে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী, বয়স্ক মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নদী পার হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর এক প্রান্তে পাকা সড়ক থাকলেও অন্য প্রান্তে এসে পথ শেষ হয়ে গেছে। সেতুতে উঠতে হলে বাঁশ-কাঠের তৈরি সরু সিঁড়ি ব্যবহার করতে হয়। কোথাও সিঁড়ির কাঠ নড়বড়ে হয়ে গেছে, কোথাও পাটাতন ক্ষয়ে গেছে। একজনের পর একজন সতর্কভাবে পা ফেলছেন। শিশু ও বয়স্কদের স্বজনেরা ধরে ধরে পার করছেন।

শুধু মানুষ নয়, এই অস্থায়ী সিঁড়ি দিয়ে কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীও পারাপার করা হচ্ছে। জরুরি রোগী নিয়ে এ পথে চলাচলের সময় স্বজনদের বাড়তি দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে।

বকাউল কান্দি এলাকার পক্ষাঘাতগ্রস্ত কৃষক খোকন গাজি নিয়মিত এই পথ ব্যবহার করেন। পায়ের সমস্যার কারণে নড়বড়ে সিঁড়ি দিয়ে সেতুতে ওঠা তার জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

খোকন গাজি বলেন, ‘পায়ে সমস্যা থাকায় এই সিঁড়ি দিয়ে পার হতে আমার খুব ভয় লাগে। এটি নড়বড়ে, কখন যে পা পিছলে নিচে পড়ে যাই, সেই ভয় থাকে। প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। সেতুর সঙ্গে রাস্তা হয়ে গেলে আমাদের এই কষ্ট আর থাকবে না।’

এই পথ দিয়েই প্রতিদিন মাদরাসায় যায় ভাই-বোন নাহিদ ও জুঁই। তাদের চলাচলের একমাত্র বাহন সাইকেল। সেতুতে ওঠার পাকা পথ না থাকায় দুজন মিলে সাইকেলটি ধরাধরি করে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে তুলতে হয়।

নাহিদ বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে মাদরাসায় যাই। কিন্তু সাইকেল নিয়ে সেতু পার হওয়া খুব কষ্টের। দুজন মিলে অনেক কষ্ট করে সাইকেলটা তুলে সেতুতে ওঠাই। সেতুর সঙ্গে রাস্তা হয়ে গেলে আমাদের আর এভাবে কষ্ট করে মাদরাসায় যেতে হবে না।’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

স্থানীয় স্কুলশিক্ষিকা গীতা রানি রায় বলেন, শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন কষ্ট করে এই পথ দিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। সংযোগ সড়ক না থাকায় সিঁড়ি দিয়ে সেতুতে উঠে নদী পার হতে হয়। এতে অনেক সময় বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে দেরি হয়। নড়বড়ে সিঁড়ির কারণে শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি পুরোপুরি চালুর দাবি জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, সেতুর মূল কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। তবে এক পাশের সংযোগ সড়ক জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে এখন তারা সংযোগ সড়কের জন্য জমি দিতে রাজি হয়েছেন। ডিজাইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে দ্রুত কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সেতুর নড়িয়া অংশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যায়নি। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তিনি এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পথ বের করেছেন। কিছুদিনের মধ্যেই সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD