বেড না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা, বাবার স্যালাইন হাতে শিশুসন্তান

হাসপাতালের মেঝেতে বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন বাবা। পাশে স্যালাইনের বোতল হাতে দাঁড়িয়ে তার শিশুসন্তান। স্যালাইন ঝোলানোর স্ট্যান্ড নেই, নেই খালি শয্যাও। তাই বাবার চিকিৎসা চালিয়ে নিতে নিজের হাতেই স্যালাইনের বোতল ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে শিশুটিকে। বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এমনই একটি দৃশ্য দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী রোগীর নাম শহিদুল ইসলাম। তিনি বরগুনা পৌর শহরের শহীদ স্মৃতি সড়কের বাসিন্দা। দুদিন ধরে জ্বরে ভোগার পর শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। তবে হাসপাতালে শয্যা না পাওয়ায় মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাকে।
শহিদুলকে স্যালাইন দেওয়া হলেও তা ঝোলানোর জন্য কোনো স্ট্যান্ড পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে তার ছোট ছেলে স্যালাইনের বোতল হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। পরে জানালার গ্রিলের সঙ্গে স্যালাইনের বোতলটি বেঁধে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দুদিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত। সকালে হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু কোনো বেড পাইনি। স্যালাইন দেওয়া হয়েছে, সেটা রাখার স্ট্যান্ড নেই। বাধ্য হয়ে আমার ছেলে স্যালাইন হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছিল। এখন জানালার গ্রিলের সঙ্গে স্যালাইন বেঁধে রেখেছি।’
বিজ্ঞাপন
শহিদুলের মতো এমন ভোগান্তিতে পড়ছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগী। বিশেষ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে চাপ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা রয়েছে ৫০টি। কিন্তু বর্তমানে রোগীর সংখ্যা নির্ধারিত শয্যার চেয়েও বেশি। ফলে অতিরিক্ত রোগীদের মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতালে ৫০টি শয্যা নির্ধারিত রয়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা শয্যার তুলনায় বেড়ে গেলে অতিরিক্ত রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ছবিতে মেঝেতে বসে চিকিৎসা নেওয়া রোগী এবং তার সন্তানকে স্যালাইনের বোতল হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি সাময়িক পরিস্থিতি ছিল। স্যালাইন ঝোলানোর ব্যবস্থা করার আগ পর্যন্ত শিশুটি বোতলটি ধরে রেখেছিল। পরে স্যালাইন ঝোলানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রোগীর বাড়তি চাপ সামাল দিতে শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








