শাহজাদপুরে কবরস্থানের ছাউনিতে পাঠদান, ফেরত গেল ১ কোটি টাকা

একটি পাকা ভবনের আশায় পুরোনো স্কুল ভবন নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। নতুন ভবনের জন্য বরাদ্দও মিলেছিল ১ কোটি ১২ লাখ টাকা। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থাসহ নানা জটিলতায় নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার আগেই দরপত্র বাতিল হয়ে যায়। পরে বরাদ্দের অর্থও ফেরত চলে যায়।
বিজ্ঞাপন
ফলে শ্রেণিকক্ষের সংকটে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার লোচনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এখন পাঠ নিতে হচ্ছে কবরস্থানের টিনের ছাউনিতে। জালালপুর ইউনিয়নের যমুনাতীরবর্তী বিদ্যালয়টির এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। রোদ-বৃষ্টি কিংবা বৈরী আবহাওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে পুরোনো ভবনটি নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরপর ২০২৪ সালে বিদ্যালয়ের জন্য দ্বিতল পাকা ভবন নির্মাণে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ অর্থে ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলে আব্দুস সোবহান ডাবলু নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়।
তবে কার্যাদেশ পাওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ শুরু করেনি। বিদ্যালয়ে নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয় এবং যোগাযোগব্যবস্থার সমস্যার কারণে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গড়িমসি করে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না—এমন পরিস্থিতিতে দরপত্র আহ্বানের প্রায় ছয় মাস পর কার্যাদেশ বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। পরে বরাদ্দের অর্থও ফেরত চলে যায়।
বিজ্ঞাপন
এদিকে স্থায়ী শ্রেণিকক্ষ না থাকায় পাশের একটি কবরস্থানের টিনের ছাউনি সরিয়ে বিদ্যালয়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, ছাউনিটি জরাজীর্ণ ও অনিরাপদ। বৃষ্টি ও প্রচণ্ড রোদের সময় পাঠদান চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিবেশে ক্লাস চলায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান শিক্ষকরা। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিভাবকরা দ্রুত নিরাপদ ও উপযোগী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, পাকা ভবনের আশায় পুরোনো ভবন সরিয়ে নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন ভবন না হওয়ায় শিশুদের দুর্ভোগই বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
শাহজাদপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) রাহাত ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টির যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয় হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের জায়গা স্বল্পতা, পাশে বড় খাল এবং যমুনা নদীর ভাঙনের ঝুঁকিসহ কয়েকটি সমস্যা ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না বিবেচনায় দরপত্র বাতিল করা হয়। পরে বরাদ্দের অর্থ ফেরত চলে যায়।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়টি যমুনা নদীর তীরবর্তী হওয়ায় সেখানে বহুতল পাকা ভবন নির্মাণ নিয়েও জটিলতা রয়েছে। এ কারণে নতুন করে শ্রেণিকক্ষ নির্মাণে ‘পাইলট ডিজাইন’ অর্থাৎ স্টিলের ফ্রেমের ওপর সেমিপাকা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন ছুটিতে থাকায় মুঠোফোনে জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালামাল পরিবহনসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে আগের টেন্ডারটি বাতিল হয়েছে। বর্তমানে একটি সেমিপাকা ঘর নির্মাণের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের দাবি, যমুনার ভাঙন ও যোগাযোগব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যালয়টির জন্য টেকসই ও উপযোগী অবকাঠামোর ব্যবস্থা দ্রুত করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদের উদ্বেগও কমবে।








