আমার বিরুদ্ধে নিউজ করবেন, আবার বিজ্ঞাপন চাইবেন: এসিল্যান্ড

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে নামজারি কার্যক্রমের সূচকে উপজেলার অবস্থান প্রথম থেকে ষষ্ঠ স্থানে নেমে যাওয়ার খবর প্রকাশের পর এক সাংবাদিকের সঙ্গে বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গ টেনে কথা বলেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাস। এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ ও সরকারি দপ্তরের বিজ্ঞাপন দেওয়ার বিষয়কে একসঙ্গে দেখার যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের দাবি, নামজারি কার্যক্রমের সূচকে ঈশ্বরগঞ্জের অবস্থান পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে উদ্দেশ করে এসিল্যান্ড বলেন, ‘আপনারা আমার বিরুদ্ধে নিউজ করবেন আবার আমার কাছে বিজ্ঞাপন চাইবেন, এটা তো হতে পারে না।’
এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস ময়মনসিংহের ১৩ উপজেলার মধ্যে নামজারি নিষ্পত্তিতে প্রথম অবস্থানে ছিল বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ওই সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাস জানিয়েছিলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভূমিসেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও হয়রানি দূর করতে তারা কাজ করছেন।
পরবর্তী সময়ে নামজারি কার্যক্রমের সূচকে ঈশ্বরগঞ্জের অবস্থান ষষ্ঠে নেমে যাওয়ার তথ্য নিয়ে স্থানীয়ভাবে সংবাদ প্রকাশ হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন পরিবর্তনের কারণ, আবেদন নিষ্পত্তির হার এবং সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তির বিষয়গুলো জনস্বার্থে আলোচনায় আসা স্বাভাবিক।
বিজ্ঞাপন
নামজারি ভূমিসেবার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। কোনো উপজেলার নামজারি কার্যক্রমের সূচকে অবনতি হলে এর কারণ কী, কোন সূচকে পিছিয়ে পড়েছে, আবেদন নিষ্পত্তির গতি কমেছে কি না এবং পরিস্থিতি উন্নয়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা জনসাধারণের জানার বিষয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সাংবাদিকদের কাজের অংশ হিসেবে সরকারি দপ্তরের সেবা, কার্যক্রম ও জনভোগান্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়ে থাকে। একইভাবে কোনো প্রতিবেদনে তথ্যগত ভুল বা বিভ্রান্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠান প্রতিবাদ জানাতে কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
তবে সংবাদ প্রকাশের পর বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গ সামনে আসায় সংবাদমাধ্যম ও সরকারি দপ্তরের পেশাগত সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে সংবাদ ও বিজ্ঞাপনকে আলাদা বিষয় হিসেবে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি প্রথমে ফোনকল গ্রহণ করেননি এবং অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে হোয়াটসঅ্যাপ কলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন দেওয়ার বিষয়ে কোনো নীতিমালা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞাপন যে আপনাদেরকে দিতে হবে এমন কোনো নীতিমালাও তো নেই।’
এদিকে, নামজারি কার্যক্রমে ঈশ্বরগঞ্জের অবস্থান কেন প্রথম থেকে ষষ্ঠ স্থানে নেমেছে—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূচক, নিষ্পত্তির পরিসংখ্যান এবং প্রশাসনিক ব্যাখ্যা সামনে আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এতে ভূমিসেবার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে জনসাধারণের কাছে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে।








