কোনো ডিসেম্বরেই শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন

শেখ হাসিনা আর কোনো ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরবেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে শেখ হাসিনার অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য এবং এ দায় আওয়ামী লীগের ওপরও বর্তায়। দলটির আনুষ্ঠানিক বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের পুনর্বাসন বা ‘রিকনসিলিয়েশন’-এর সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটা মানুষ এত বোকা হতে পারে না যে যার জন্য আদালতে ফাঁসির দড়ি প্রস্তুত রাখা আছে, সে দেশে ফিরে নিজেই সেই দড়িতে ঝুলবে! শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়েছেন আত্মরক্ষার জন্য, বাংলাদেশে ফেরার জন্য নয়।’
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, ‘তিনি যদি দল বা রাজনীতিকে সত্যি ভালোবাসতেন, তাহলে বলতেন, আমি জেলে যেতে রাজি, তাও দেশ ছাড়ব না। যে একবার পালিয়ে গেছে, সে আর কখনো ফিরবে না। কোনো ডিসেম্বরেই আর ফিরবে না।’
বিজ্ঞাপন
আওয়ামী লীগের ক্ষমা চাওয়া ও রাজনৈতিক সমঝোতার প্রসঙ্গেও কঠোর অবস্থান জানান তিনি। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগ ক্ষমা চাইল কি না, তা ভুক্তভোগী জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। যারা ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা সমঝোতার কথা বলছেন, তাদের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাশেদ খাঁনের দাবি, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের আগে বিচার সম্পন্ন করতে হবে। এর আগে দলটির সঙ্গে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ সময় জামায়াতে ইসলামী ও জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজন ছাত্রনেতার ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। জামায়াতের আমীর অভ্যুত্থানের এক মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। ক্ষমতার স্বার্থে জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে শিশির মনিরের ভূমিকা এবং জুলাই আন্দোলনের সময় জামায়াত-সংশ্লিষ্টদের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। এসব বক্তব্য তার নিজস্ব অভিযোগ ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে এসেছে।
গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ভূমিকার কথা তুলে ধরে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘হাসিনা খেদাও আন্দোলনে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাই সবচেয়ে বেশি জীবন দিয়েছেন।’
তিনি জানান, জুলাই শহীদদের অবদান এবং বিএনপির ভূমিকা মানুষের কাছে তুলে ধরতে তিনি দেশজুড়ে জুলাই শহীদদের মাজার জিয়ারত করছেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন।
বিজ্ঞাপন
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি কামরুজ্জামান লিটন। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, কলেজের অধ্যক্ষ নাহিদা আক্তারসহ জেলা বিএনপির নেতারা বক্তব্য দেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।








