Logo

মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর ছয় বছর, মিন্নির ভাগ্যে কী আছে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:৩৮
মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর ছয় বছর, মিন্নির ভাগ্যে কী আছে
ছবি: সংগৃহীত

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির মামলা। বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে দিন কাটছে তাঁর।

বিজ্ঞাপন

উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষ না হওয়ায় মামলার চূড়ান্ত পরিণতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। কারাগারে ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। মাসে একবার স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান।

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। একই বছরের ৪ অক্টোবর দণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। রায়ের বিরুদ্ধে ছয় আসামি আপিলও করেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হাইকোর্টে বর্তমানে ১ হাজার ২৬৫টি ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ডেথ রেফারেন্স কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির জানিয়েছেন, বর্তমানে ২০১৯ সালে আসা ডেথ রেফারেন্সগুলোর শুনানি চলছে। রিফাত হত্যা মামলাটি শুনানির কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা খোঁজ নিয়ে জানাতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মিন্নির জামিন আবেদনও দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। অসুস্থতা ও নারী বন্দি হিসেবে বিশেষ বিবেচনার কথা উল্লেখ করে ২০২২ সালের ১৬ অক্টোবর তাঁর জামিনের আবেদন করা হয়। ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আবেদনটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তী সময়ে অন্য একটি বেঞ্চে আবেদনটি উপস্থাপনের পর তা মুলতবি রাখা হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এরপর আবেদনটি আর শুনানির তালিকায় ওঠেনি।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের অভিযোগ, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁর মেয়েকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের দাবি, কারাগারে তাঁর মেয়ের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। মাসে একবার মেয়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান পরিবারের সদস্যরা। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় মিন্নির জামিনের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং মামলার আইনি কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে মিন্নিকে কাশিমপুর কারাগার থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। কারা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে মিন্নিই একমাত্র নারী বন্দি।

কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী, বন্দিরা মাসে একবার স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সপ্তাহে একবার নির্ধারিত সময়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ পান।

বিজ্ঞাপন

কারা সূত্রের দাবি, মিন্নি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, নীরবে সময় কাটান এবং কারাগারে তাঁর আচরণ সন্তোষজনক।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মৃত্যুদণ্ডের রায় চূড়ান্ত হওয়ার আগে দীর্ঘ সময় কনডেম সেলে বন্দি থাকার বিষয়টি মানবাধিকারের প্রশ্ন সামনে আনে। হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলেও আপিল বিভাগে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। অতীতে দীর্ঘদিন কারাবাসের পর আপিল বিভাগে খালাস পাওয়ার নজিরও রয়েছে।

তবে মিন্নির মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কবে হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে, নাকি উচ্চ আদালতে রায়ে পরিবর্তন আসবে—সেই সিদ্ধান্ত আদালতের। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বন্দিদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি তাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD