Logo

পাহাড়ি কৃষিপণ্য রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা, দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
১১ অক্টোবর, ২০২৬, ২০:০৫
পাহাড়ি কৃষিপণ্য রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা, দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ
ছবি: সংগৃহীত

খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোক্তা ও কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং ও রপ্তানির আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ‘রপ্তানি পণ্য বৈচিত্রায়ণ’ কর্মসূচির আওতায় গত (১০ অক্টোবর) খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে ‘কৃষিপণ্য রপ্তানিতে উদ্যোক্তা ও চাষীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও রপ্তানি সক্ষমতা উন্নয়ন’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ। এতে সভাপতিত্ব করেন মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক কুমকুম সুলতানা, বাংলাদেশ ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রামের সভাপতি মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় কৃষক ও উদ্যোক্তারা।

বিজ্ঞাপন

পাহাড়ি কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, খাগড়াছড়ি ও আশপাশের পার্বত্য অঞ্চলে আম, আনারস, কমলা, কলা, কফি, কাঁঠাল, কাজুবাদাম, ড্রাগনফ্রুট ও পেঁপেসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানির উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।

এসব পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি কৃষক ও উদ্যোক্তাদের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য কৃষিপণ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান। তাঁর মতে, উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গ্রেডিং, প্যাকেজিং ও পরিবহন—প্রতিটি পর্যায়েই মান বজায় রাখা জরুরি।

আধুনিক চাষাবাদ ও সংরক্ষণে গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী কৃষিপণ্য উৎপাদন, আধুনিক বাগান ব্যবস্থাপনা এবং ফসল সংগ্রহের পর যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে পণ্যের অপচয় কমানো সম্ভব বলে জানান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। পাশাপাশি কার্যকর সরবরাহব্যবস্থা ও মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে কৃষিপণ্যের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বাড়ানো যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বিদেশি ক্রেতা খুঁজে বের করা, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা বিশ্লেষণ এবং রপ্তানিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির বিষয়ে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।

এ ধরনের প্রশিক্ষণ স্থানীয় কৃষিপণ্যের রপ্তানি সক্ষমতা উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন আন্তর্জাতিক বাজার তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রশিক্ষণে যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়

বিজ্ঞাপন

দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে রপ্তানিযোগ্য উদ্যানতাত্ত্বিক ফসলের গুরুত্ব ও উৎপাদন কৌশল, ফলমূল ও শাকসবজির ফসল সংগ্রহ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা, সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন এবং উত্তম কৃষিচর্চা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এ ছাড়া গ্রেডিং ও প্যাকেজিং পদ্ধতি, রপ্তানি প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ, বিদেশি ক্রেতা অনুসন্ধান এবং রপ্তানিসংক্রান্ত নথিপত্র প্রস্তুতের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

কর্মসূচিটি আয়োজনে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোকে সহযোগিতা করে মানিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD