স্ত্রীর লাশ রেখে নামাজ পড়তে গিয়ে মসজিদেই প্রাণ গেল স্বামীর

নড়াইলের সদর উপজেলায় স্ত্রীর মৃত্যুর শোক বুকে নিয়েই ফজরের আজান ও নামাজ আদায় করতে মসজিদে গিয়েছিলেন রোমান মোল্যা (৬০)। কিন্তু নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই মসজিদে অসুস্থ হয়ে মারা যান তিনি। মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো গ্রামে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১১ অক্টোবর) জোহরের নামাজের পর নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের মালিডাঙ্গা গ্রামের স্থানীয় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাঁদের জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। তবে কুয়েতপ্রবাসী ছেলে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকায় তখনো তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়নি।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোমান মোল্যার স্ত্রী গত সাত বছর ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত ছিলেন। মাঝেমধ্যে কিছুটা সুস্থ বোধ করলেও বেশির ভাগ সময় তাঁকে শয্যাশায়ী থাকতে হতো। শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রোমান মোল্যা মালিডাঙ্গা দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের নিয়মিত মুয়াজ্জিন ছিলেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পরও ফজরের সময় তিনি মসজিদে গিয়ে আজান দেন এবং জামাতে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে উপস্থিত মুসল্লিরা তাঁকে সুস্থ করার চেষ্টা করেন। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে। হৃদয়বিদারক ঘটনাটি স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা খায়রুল বাশার জানান, দম্পতির ছেলে জসিম জীবিকার প্রয়োজনে কুয়েতে থাকেন। বাবা-মায়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে তিনি দেশে ফেরার জন্য রওনা হয়েছেন। সোমবার তিনি বাড়িতে পৌঁছানোর পর পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।








