পার্লারে তরুণ-তরুণী আটকের অভিযোগ, পুলিশের বক্তব্যে ভিন্ন দাবি

কক্সবাজারের ঈদগাঁও বাজারের একটি বিউটি পার্লারে গভীর রাতে এক তরুণ ও এক তরুণীকে অবরুদ্ধ করার পর পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ-সংলগ্ন আব্দুর রহমানের মালিকানাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘অপরূপা বিউটি পার্লার’-এ এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পার্লারটির আড়ালে বহিরাগত তরুণ-তরুণীদের নিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছিল। ঘটনার রাতে সন্দেহভাজন এক যুবক পার্লারে প্রবেশ করলে বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে দেন। পরে ৯৯৯-এ ফোন করা হলে রাত পৌনে ৩টার দিকে ঈদগাঁও থানা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নিউটনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশ তালা খুলে পার্লারের ভেতর থেকে এক যুবক ও এক তরুণীকে আটক করে। পরে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে গোপনে আলোচনা শেষে তরুণীকে পার্লারে রেখে যুবককে সঙ্গে নিয়ে যায় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে ওই যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও দাবি তাঁদের।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
পার্লারের পরিচালকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে পার্লার পরিচালকের স্বামী রিফাত ও ভবনমালিক আব্দুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, পার্লারের এক নারী কর্মচারীর সঙ্গে গভীর রাতে মালিকদের অজান্তে এক যুবক দেখা করতে এলে স্থানীয়রা বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন। পরে পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে এবং যুবককে সঙ্গে নিয়ে যায়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই নিউটন আটক ও ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কিছু লোক বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দিয়েছিল। ৯৯৯-এর সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে তালা খুলে পার্লার মালিক ও তার স্ত্রীকে দেখতে পায়। সেখানে অন্য কোনো যুবক-যুবতী পাওয়া যায়নি।”
ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.টি.এম. সিফাতুল মাজদারও জানান, এ ধরনের কোনো তরুণ-তরুণী আটকের তথ্য তাঁদের জানা নেই এবং কাউকে আটক করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।








