Logo

বুড়িচংয়ে তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
বুড়িচং, কুমিল্লা
২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:৫০
বুড়িচংয়ে তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামে কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের জন্য তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের প্রাথমিক উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ২৪টি কৃষক পরিবারের সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

তাঁদের দাবি, প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহণ করা হলে পরিবারগুলোর জীবিকা ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়বে। জমি রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

এ পরিস্থিতিতে জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে বিকল্প স্থানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের উদ্যোগ নিতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে বুড়িচং প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন হরিপুর গ্রামের কৃষক পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোহাম্মদ রবিউল হাসান। এ সময় নেহারা খাতুন, আলমগীর হোসেন, ফরিদ মিয়াসহ গ্রামের আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

লিখিত বক্তব্যে কৃষক পরিবারগুলো জানায়, হরিপুর গ্রামে কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে যে জমিগুলো নির্বাচন করা হয়েছে, সেগুলো তিন ফসলি কৃষিজমি। এসব জমিতে বছরে একাধিকবার ফসল উৎপাদন করে এলাকার বহু দরিদ্র পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। কৃষিকাজের সঙ্গে তাঁদের সংসারের আয়-রোজগার, সন্তানদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সরাসরি জড়িত।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

কৃষকদের দাবি, প্রস্তাবিত জমিগুলো তাঁদের কাছে শুধু কৃষিজমি নয়, বরং বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। জমির মালিকদের অধিকাংশই আর্থিকভাবে অসচ্ছল। তাঁদের কেউ অটোরিকশা চালান, কেউ রিকশা চালান, আবার কেউ অন্য সাধারণ পেশায় যুক্ত। এসব পেশা থেকে সামান্য আয়ের পাশাপাশি জমিতে ফসল ফলিয়ে তাঁরা পরিবারের ভরণপোষণ চালান। অনেকেরই জমির বাইরে উল্লেখযোগ্য সম্পদ বা বিকল্প আয়ের উৎস নেই বলে তাঁরা জানান।

বিজ্ঞাপন

পরিবারগুলোর আশঙ্কা, প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহণ করা হলে ২৪টি পরিবার ভূমিহীন হয়ে পড়বে এবং কয়েকটি পরিবারের বসতভিটাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জমি হারালে কৃষিকাজ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি আয় কমে যাবে। এতে খাদ্য, চিকিৎসা, সন্তানদের শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে কৃষক পরিবারের সদস্যরা বলেন, ‘আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন এই ফসলি জমি। জমি হারালে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা কোথায় যাব, কীভাবে চলব? তাই আমাদের শেষ সম্বল রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত।’

তাঁরা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের বিরোধিতা করছেন না তাঁরা। তবে তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে এলাকার পতিত ও অনাবাদি জমি বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, বিকল্প জমি ব্যবহার করা হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পাশাপাশি কৃষক পরিবারগুলোর জীবিকা ও বসতভিটা রক্ষা করা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

কৃষক পরিবারের সদস্যদের আরও দাবি, এলাকায় সরকারি খাসজমি রয়েছে। এ ছাড়া বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন ব্যক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য বিনা মূল্যে জমি দান করতে আগ্রহী। এসব সম্ভাবনা যাচাই না করে তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হলো কেন, সে প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।

তাঁদের অভিযোগ, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অসহায় কৃষক পরিবারগুলোকে ভূমিহীন করার উদ্দেশ্যে এসব জমি নির্বাচন করেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারগুলো জমি অধিগ্রহণের আগে বিকল্প স্থান যাচাই, ক্ষতিগ্রস্তদের বাস্তব অবস্থা বিবেচনা এবং তাঁদের মতামত নেওয়ার দাবি জানায়।

বিজ্ঞাপন

এ সময় তাঁরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং বুড়িচং প্রেসক্লাব বরাবর স্মারকলিপি দেন।

স্মারকলিপিতে প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা, বিকল্প জমি নির্ধারণ এবং ২৪টি কৃষক পরিবারের জীবিকা ও বসতভিটা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD